পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না বলে রাজ্য বিধানসভায় বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বাজেটের জবাবী ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট জানান যে, জোর করে সাধারণ মানুষের ওপর স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিকা উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক রাখা হচ্ছে। এর আগের দিনই সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, কোনও নীতি প্রয়োগের পূর্বে তার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা আবশ্যক।
আরও পড়ুন:
স্মার্ট মিটারের বিরোধিতায় বিগত দিনে বাম এবং এসইউসিআই-সহ একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি কটাক্ষের সুরে জানান, সরকার মানুষের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আন্দোলনকারীদের ইস্যুই বন্ধ হয়ে গেল। একই মঞ্চ থেকে ‘যাদবপুর পার্টি’র উদ্দেশ্যেও সতর্কবার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এটি কোনও দুর্বল সরকার নয়, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সার্বিক নজর রাখছে।আরও পড়ুন:
এদিনের বক্তব্য থেকে রাজ্যের কৃষকদের জন্যও স্বস্তির খবর নিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, সেচের কাজে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্পের আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অতিরিক্ত ২ টাকা করে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ডিভিসি ও পাঞ্চেৎ মিলিয়ে ১০০০ মেগাওয়াটের একটি মেগা পাওয়ার স্টোরেজ প্রকল্প এবং বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি নতুন ইউনিট তৈরির কথা জানান তিনি। দেশের সীমান্ত সংলগ্ন নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের অধীন রাজ্যের ৯টি সীমান্ত সংলগ্ন জেলায় বিদ্যুৎ দপ্তরের কাজের সুবিধার্থে অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।