আবদুল ওদুদ: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পিসি চন্দ্র গার্ডেনের প্রাঙ্গণে বুধবার অনুষ্ঠিত হলো ‘কলকাতা গারমেন্টস এক্সপো ২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য ও ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বাংলা রেডিমেড গারমেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স আন্ড ট্রেডার্স ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কলকাতার পক্ষ থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা বাংলার পোশাক শিল্পের অগ্রগতি এবং অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে এর অবদানের কথা তুলে ধরেন। বুধবার পিসি চন্দ্র গার্ডেনে তিন দিনের গার্মেন্টস মেলা শুরু হয়েছে। চলবে আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ২৪ জুলাই পর্যন্ত। রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মেটিয়াবুরূজের পোশাক শিল্পকে ছড়িয়ে দিতে এই মেলা অত্যন্ত তাৎপর্য ভুমিকা রাকছে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আলমগীর ফকির সকলকে সালাম, নমস্কার ও শুভ সকাল জানিয়ে বলেন, এটি কোনো সাধারণ প্রদর্শনী নয়; এটি দীর্ঘ এক দশকের লড়াই, স্বপ্ন এবং সাফল্যের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

এই শিল্পে কারখানা থেকে ডিজাইনিং;সবক্ষেত্রেই নারী শক্তির অবদান অনস্বীকার্য। ১০ বছর আগে পোশাক শিল্পের অগ্রগতি নিয়ে যে মেলার আয়োজন শুরু করে ছিলেন তার নানা দিক তুলে ধরেন। আগামিতে রাজ্যের বাইরে মেটিয়াবুরুজের পোশাককে আরও ছাড়িয়ে দিতে এই মেলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বলে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় মুখপত্র ও বিশিষ্ট মুখপাত্র শ্রীমতী কেয়া ঘোষ বলেন, বাংলাদেশের গারমেন্টস শিল্পের মতো বাংলার এই শিল্পকেও দ্বিগুণ-ত্রিগুণ বা তার বেশি বাড়িয়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মেটিয়াবুরুজের এই বিশাল শিল্পকে গোটা বঙ্গে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং বাংলার ঘরে ঘরে ও সারা ভারতবর্ষে এর প্রসার ঘটাতে হবে। তিনি আরও জানান, মালদা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া ও মেদিনীপুরের শ্রমিক ও মেয়েদের হাতের জড়ি কাজ ও সূক্ষ্ম কারুকার্য প্রশংসনীয় এবং এই শিল্পে যুক্ত লাখ লাখ মানুষের রুজি-রোজগার বাংলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
এছাড়া তিনি বাংলার পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের নিয়মিত প্রেস ব্রিফ ও মিট অ্যান্ড গ্রীট করার আহ্বান জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মেটিয়াবুরুজের পোশাক শিল্প নিয়ে আলোচনা করব। এখানকার শিল্প সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে তার সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
শ্রীনিকেতন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিত্যানন্দ আইচ তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই গারমেন্টস সেক্টর ও ফিনিশিংয়ের মান আজ সারা ভারতবর্ষে সমাদৃত হচ্ছে। তবে এই শিল্পের উন্নতির জন্য আরও বেশি সমর্থন, সংগঠন এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেএনএন থেকে শ্রী বনশালী জি মহাশয়, সিমপার্ক মল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিবেন্দু ঘোষ, শ্রীনিকেতন ফ্যাশনের ডিরেক্টর শ্রী নিত্যানন্দ আইচ , বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত ব্যবসায়ী বন্ধুগণ এবং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহজাহান আলী মোল্লা ও সহ-সভাপতি দিলীপ কুমার গণত্রা মহাশয়সহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।
আগামী ২৪শে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই প্রাঙ্গণ নতুন কালেকশন, বিজনেস ডিল এবং মেলবন্ধনে মুখরিত থাকবে। এই আয়োজন বাংলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কলকাতাকে ভারতের অন্যতম প্রধান গারমেন্টস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আয়োজক ও অতিথিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শাজাহান আলী মোল্লা বলেন, আমরা পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ক্রেতারা এসেছেন। মেতিয়াবুরুজের পোশাক কে সাড়া দেশে ছড়িয়ে দিতে। গত ১০বছর ধরে এই পোশাক মেলা হয়ে আসছে। সাফল্যের হার ক্রমেই বাড়ছে। আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, নওয়াজ মোল্লা, কে বি আগরওয়াল শেখ জসিমউদ্দিন, বনশাল জৈন, জাকারিয়া খান, মুমতাজ আলী, মারুফ ইকবাল প্রমুখ।