পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করেছে। তবে কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলি থাকার কারণে রাজ্যের বহু মানুষ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। সেই সমস্ত সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবার রাজ্যে চালু করলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’। তিনি যে এই ধরনের একটি প্রকল্প আনতে চলেছেন, তা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অবশেষে সোমবার এই বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জানানো হয়েছে, এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বাংলা বঞ্চিত ছিল। তৎকালীন তৃণমূল সরকার রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে ২০১৬ সালে মহিলাদের নামে পাঁচ লক্ষ টাকার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড চালু করেছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর আয়ুষ্মান ভারতের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা যোজনা রাজ্যবাসীর চিকিৎসায় আরও সুবিধা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সোমবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে কারা এই যোজনার আওতাভুক্ত হতে পারবেন না, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক আয় আট লক্ষ টাকা বা তার বেশি, তাঁরা এই স্বাস্থ্যবিমা পাবেন না। পাশাপাশি, ২০০৮ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য স্কিমের আওতাভুক্ত কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং ১৯৫৪ সালের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য স্কিমের সুবিধাভোগী কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরাও এই সুবিধার বাইরে থাকবেন। এছাড়াও, যাঁরা কোনও গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্সের আওতাধীন অথবা সরকারি নিয়মে মেডিক্যাল অ্যালাওয়েন্স বা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন, তাঁদেরকেও এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে।আরও পড়ুন:
বয়সের ক্ষেত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরিবারের কোনও সদস্যের বয়স সত্তর বছর বা তার বেশি হলে তিনি এই বিমার সুযোগ পাবেন না, কারণ সত্তরোর্ধ্ব বয়স্করা ইতিমধ্যেই সরাসরি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে, এসআইআর তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাতিল হয়ে গিয়েছে, তাঁরাও এই নতুন স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।