পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে দুর্নীতি দমনে কড়া অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে আসছেন। এবার সেই হুঁশিয়ারি যে নিছক কথার কথা নয়, তা হাতেকলমে প্রমাণ করে দিল রাজ্য সরকার।

জানা যাচ্ছে, রাস্তায় ট্রাক আটকে তোলা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে পরিবহণ দপ্তরের দুই কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

শুক্রবার সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দিয়েছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
ঘটনাটির সূত্রপাত পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীপক সিং নামের এক ব্যক্তির একটি পণ্যবাহী ট্রাক সার্ভিসিংয়ের পর গ্যারেজে ফিরছিল।
গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শিব যাদব নামের এক চালক। ফেরার পথে রামপুর চেকপোস্টে কর্তব্যরত আধিকারিকরা সেই ট্রাকটিকে বিনা কারণে আটকে দেন। অভিযোগ, চালককে হেনস্থা করার পাশাপাশি তাঁর কাছে ঘুষ চাওয়া হয়। চালক ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে গাড়িটি জোর করে বাজেয়াপ্ত করেন ওই আধিকারিকরা।
এমনকি, রাজ্য সরকার যে কর আগেই বাতিল করেছে, সেই বাতিল করের নাম করে বেআইনিভাবে ২২ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরে আসতেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে পরিবহণ দপ্তরের দুই কর্মী মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত ফৌজদারি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের জন্য পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো’ বা দুর্নীতি দমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে আরও জানিয়েছেন যে, যে সমস্ত গাড়ি অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে সেগুলি যাতে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অযথা হেনস্থা রুখতে প্রশাসন যাতে আরও তৎপর হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি বা বেআইনিভাবে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা হলে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।