পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: “নাম নিয়ে সমস্যা থাকলে নাম বদলে দিন, বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকার নিজের দখলে নিয়ে নিক… কিন্তু ধ্বংস করবেন না!”— রামপুরের মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওটি টেকনিশিয়ান কোর্সে পাঠরত ২০ বছর বয়সী ছাত্র শাহভেজের কণ্ঠে এখন কেবলই চরম আকুতি আর ক্ষোভ। কারণ, উত্তর প্রদেশের রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টিই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জবাব ও পদক্ষেপ নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
যদি এই বুলডোজার অভিযান বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রায় ২৫০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ও দীর্ঘ দুই দশক আগে সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা আজম খান প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ মুছে যাবে। কেবল মেডিকেল কলেজ এবং একটি একাডেমিক ব্লক বাদে বাকি সমস্ত ভবনই ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে। এম. ফার্মা-র শেষ বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ শোয়েব আগামী ৩ মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবর্তন এবং নিজের ডিগ্রি নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। শোয়েব বলেন, “২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী রামপুর ছিল উত্তর প্রদেশের সর্বনিম্ন সাক্ষরতার তালিকায় পঞ্চম স্থানে।
আমাদের নিয়ে রসিকতা করা হতো। রামপুরের এই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়টি যদি ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তবে পুরো জেলার ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?”আরও পড়ুন:
অক্সিলিয়ারি নার্স মিডওয়াইফ কোর্সের ছাত্রী ফারাহ ও তাঁর সঙ্গীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার একদিকে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর কথা বলে, কিন্তু আমাদের শিক্ষার কী হবে? অন্য কোথাও দূরের কলেজে আমাদের পরিবার আমাদের একা পড়তে পাঠাবে না। কোনো অনিয়ম থাকলে তার সংশোধন করা হোক, জরিমানা করা হোক, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা কোনো সমাধান হতে পারে না।”