পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সোমবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সিকিমের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস এবং প্রাণঘাতী মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন। দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং এলাকায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘হেড রেস টানেল’-এ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও, এখনও ভিতরে আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই নিরলসভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাহিনী। উদ্ধারকাজে গতি আনতে বুধবার রাতেই আসানসোল থেকে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ দলটি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই যৌথ অভিযানে আরও পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৫টি দেহের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গিয়েছে। মৃতদেহগুলি শনাক্তকরণের পাশাপাশি সুড়ঙ্গের আরও গভীরে আটকে থাকা অন্যান্যদের সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।আরও পড়ুন:
ঠিক কী কারণে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে বুধবারই একটি চার সদস্যের উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিকিম সরকার। রাজ্যের মুখ্যসচিব আর তেলং-এর স্বাক্ষরিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানিয়েছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে কর্তৃপক্ষের ঠিক কোথায় গাফিলতি ছিল এবং আগামী দিনে শ্রমিকদের সুরক্ষার স্বার্থে কী কী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।