পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকা বনগাঁ ও বাগদাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ অনুপ্রবেশ সিন্ডিকেট, যার জাল ছড়িয়ে রয়েছে দিল্লি, হায়দরাবাদ-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে। সম্প্রতি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তদন্তে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আরও পড়ুন:
শুধু বেআইনি সীমান্ত পারাপারই নয়, এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের আড়ালে কোনও জঙ্গি অনুপ্রবেশ কিংবা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের আর্থিক লেনদেন চলছে কি না, তা ও খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর এই সুসংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ।
আরও পড়ুন:
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত মে মাসে বনগাঁ থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরেই এই তদন্তের সূচনা হয়। তদন্তে নেমে উত্তর ২৪ পরগনার এই বিস্তৃত পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল কারিগর বা 'কিংপিন' হিসেবে রামচন্দ্রপুর-ভিড়া গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডলের নাম সামনে আসে। স্থানীয় ঘাটবাওড় পঞ্চায়েতের সদস্য তথা এলাকার পরিচিত তৃণমূল কর্মী সাহাবুদ্দিনকে গত মে মাসের শেষে একটি বেআইনি অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার করেছিল বনগাঁ থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন:
এলাকায় ছোট ব্যবসা এবং বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার আড়ালেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অনুপ্রবেশ চক্র পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ।
বনগাঁ ও বাগদা সীমান্তে থাকা কাঁটাতারবিহীন এবং নদীঘেরা অরক্ষিত এলাকাগুলিকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত পারাপার করানো হত। ভৌগোলিক সুবিধার জন্য বাংলাদেশি সিমকার্ড ব্যবহার করে ওপার বাংলার চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হত। এরপর অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে সাময়িকভাবে রেখে, ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরি করে কলকাতা কিংবা দেশের অন্য বড় শহরগুলিতে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে 'প্যাকেজ' চুক্তি করত এই সিন্ডিকেট।আরও পড়ুন:
তদন্তে সাহাবুদ্দিনের একাধিক সহযোগীর নামও সামনে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে ভিড়া গ্রামের বাসিন্দা দুখে ওরফে হারুন রশিদ, বাগদার রনঘাট এলাকার খয়রুল, রানা ও আজহারুল, হাওড়ার রাজু এবং নদিয়ার দত্তফুলিয়ার বাসিন্দা রাশেদ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুখে ওরফে হারুনের মূল কাজ ছিল গাড়ি ভাড়া করে অনুপ্রবেশকারীদের হাওড়া স্টেশনে এনে রাজু নামক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া। সেখান থেকেই ট্রেনে করে দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের নানা প্রান্তে তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হত।