পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তর  ফের উত্তপ্ত। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যাপক পাথর ছোড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। এই নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। ইটবৃষ্টির জেরে পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক-সহ বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন।

তবে সিজেপি-র তরফ থেকে এই হামলার দায় সরাসরি বিজেপির দিকেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের স্পষ্ট দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করতে শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাই এই পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই যন্তর মন্তর এবং সংলগ্ন ইন্ডিয়া গেট এলাকায়

জানা যায়, বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আচমকা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু পাথর উড়ে আসতে থাকে। উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।

এর ফলে গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং দু'পক্ষের খণ্ডযুদ্ধে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

দিল্লি পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতের এই হামলায় দুজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) এবং চারজন সাধারণ পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এসিপি বিবেক ভগতের চোট অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মাথায় গভীর আঘাত লেগেছে এবং সারা শরীরে একাধিক কালশিটে দাগ রয়েছে। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়েছে যে, এসিপি-র মাথার পেছনের অংশে মারাত্মক ফোলা ভাব ছিল এবং ঘটনার পর তাঁর কান দিয়ে রক্তক্ষরণ ও বমিও হয়েছিল। পরে রোগীর নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী তাঁকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)-এ স্থানান্তরিত করার জন্য হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পুলিশের ওপর এই নারকীয় হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে সিজেপি।