পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ উত্তর সিকিমে ভয়াবহ ধসের জেরে লাচেন ও চুংথাঙের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিপজ্জনক আবহাওয়া এবং প্রবল তুষারপাতের মধ্যেই আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে নেমেছে ভারতীয় সেনা। শুরু হয়েছে বিশেষ উদ্ধার অভিযান—‘অপারেশন হিম সেতু’।
আরও পড়ুন:
রবিবার চুংথাঙ থেকে লাচেন যাওয়ার পথে তারাম চু সেতুর কাছে হঠাৎ ধস নামে। এর জেরে ওই রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লাচেন এলাকায় বহু পর্যটক আটকে পড়েন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কোর। তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের দলও। উদ্ধারকারীরা বরফ সরিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরির চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত অস্থায়ী ফুটব্রিজ তৈরি করে পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেনা সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩৫ জন পর্যটককে উত্তর সিকিম থেকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩২টি ছোট গাড়ি এবং ১০টি মোটরবাইকও। তুষারে ঢাকা বিপজ্জনক ও পিচ্ছিল পথে আটকে থাকা সাধারণ মানুষের গাড়ি টেনে তুলতে সেনাবাহিনীর ভারী শক্তিশালী যান ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানের সময় এক অসুস্থ ৮০ বছরের বৃদ্ধকেও নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছেন জওয়ানরা।আরও পড়ুন:
এখনও লাচেন এলাকায় প্রায় এক হাজার পর্যটক আটকে রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সেনাবাহিনী। আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল হলেও ধাপে ধাপে পর্যটকদের নিচের দিকে নামিয়ে আনার কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা তুষারপাতের কারণে সিকিমে পর্যটকের ভিড় অনেকটাই বেড়েছিল।
বিশেষ করে উত্তর সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রচুর পর্যটক গিয়েছিলেন। সেই সময়েই এই ধস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।আরও পড়ুন:
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উত্তর সিকিমের লাচেনের কাছে তারাম চু এলাকায় যে সেতুর ধস হয়েছে, সেটি খুব সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ওই সেতুর উদ্বোধন হয়েছিল। সেতুটি চালু হওয়ার পর পাহাড়ি ওই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর একাংশ ধসে পড়ায় লাচেনের একটি বড় অংশের সঙ্গে যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।