আবদুল ওদুদ: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ১৭,৯২৫.৪২ কোটি টাকার স্বরাষ্ট্র এবং পাহাড় বিষয়ক দপ্তরের বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে রানিগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি নতুন সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি শুরুতেই বলেন, নতুন সরকার জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এলেও বিরোধী দল হিসেবে তারা শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরে অন্ধ বিরোধিতা করতে আসেননি, বরং সরকারের জনস্বার্থের ভালো পদক্ষেপগুলোকে তাঁরা সাধুবাদ জানান। তবে বিরোধী দল হিসেবে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন:
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনকে যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারের আমলেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
পুলিশের হাতে অতিরিক্ত আইন ক্ষমতা দেওয়ার ফলে সাধারণ ও নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে এর অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি নতুন সরকারের কাছে দাবি জানান, রাজনৈতিক কারণে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অতীতে যে সমস্ত মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলা সাজানো হয়েছিল, অবিলম্বে একটি কমিশন বা রিভিউ কমিটি গঠন করে সেই মামলাগুলির ক্ষতিয়ে দেখে প্রত্যাহার করা হোক। সেইসঙ্গে তিনি রাজ্যের পাহাড় এবং সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ও সত্যিকারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।পুলিশকে নিরপেক্ষ প্রশাসন হিসেবে কাজ করতে না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কংগ্রেসের শত শত নির্দোষ কর্মীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে জেলে পোরা হয়েছে এবং নারী নেতৃত্ব ও যুবকর্মীদের জীবন ধ্বংস করতে মাদক মামলাসহ বিভিন্ন কাল্পনিক মামলার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা শুধু কংগ্রেস কর্মী নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীসহ সকল মানুষই জানেন।
তিনি বলেন,অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বিগত সরকারের পুলিশের অপব্যবহারের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই নতুন সরকার দুটি বিপজ্জনক আইন পাস করেছে, যার নাম— 'পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট, ২০২৬' এবং 'পাবলিক অর্ডার মেইনটেনেন্স সংশোধনী আইন'। এই আইনগুলি পুলিশকে অতিরিক্ত আইনগত ক্ষমতা প্রদান করবে, যার ফলে সাধারণ ও নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশের অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান যে, যারা এই ধরনের ক্রাইম বা দলীয় কার্যকলাপ করবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রশাসন কঠোর অ্যাকশন নিক, কিন্তু তার জেরে যেন কোনো সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক শিকার না হন। সাধারণ মানুষের অধিকার কাড়তে পুলিশের এই অসীম ক্ষমতার কথা সরকারের একটু ভেবে দেখা উচিত এবং এই আইনগুলি পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।