পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দু'দিন ধরে জলবন্দি মেদিনীপুর শহর। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে নতুন শাসকদল। মানুষকে উদ্ধার করার কাজে পৌরসভাকে নানা উপদেশ দিচ্ছেন বিজেপি নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বিধায়ক। তবে এই সমস্যা থেকে পাকাপাকিভাবে মুক্তি পেতে, বিধানসভায় বিষয়টি তুলে ধরে 'মেদিনীপুর মাস্টার প্ল্যান'-এর অনুরোধ জানিয়েছেন মেদিনীপুরের বিধায়ক ডা: শঙ্কর গুছাইত। খড়্গপুর আইআইটি-কে দিয়ে এই প্ল্যান তৈরি করানোর অনুরোধ রাখা হয়েছে বিধানসভায়।
এতে প্রতি বছরের এই জল-যন্ত্রণার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে মেদিনীপুরবাসী অনেকটাই আশার আলো দেখছেন।আরও পড়ুন:
অতিবর্ষণের কারণে গত দু'দিন ধরে মেদিনীপুর শহরের বড় অংশ প্লাবিত হয়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে মেদিনীপুর শহর যেভাবে জলমগ্ন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে বহু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মেদিনীপুর পৌর এলাকার ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডই জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এখনও সব জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি।
এর কারণ হিসেবে পূর্বতন সরকারি আধিকারিক ও পৌরসভার আধিকারিকদের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন বর্তমান বিধায়ক। আর সেই কারণেই প্রতি বছর বেশি বৃষ্টি হলেই বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে কাটাতে হয় মেদিনীপুর পৌর এলাকার বেশিরভাগ ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।আরও পড়ুন:
এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধানের লক্ষ্যেই বুধবার বিধানসভায় নিজের বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে মেদিনীপুর শহরের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যানের দাবি রাখেন বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে মেদিনীপুরবাসী কীভাবে প্লাবন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে তিনি বেশ কিছু অনুরোধ করেন এবং এই পরিস্থিতির জন্য পূর্বতন সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেন। জল-যন্ত্রণা থেকে মেদিনীপুর শহরকে মুক্তি দিতে খড়গপুর আইআইটি-র সহযোগিতায় মাস্টার প্ল্যান তৈরির এই প্রস্তাব তিনি বিধানসভায় রাখেন।
আরও পড়ুন:
স্পিকারের উদ্দেশে শঙ্কর গুছাইত বলেন, “আপনার মাধ্যমে মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স-এর ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, আমাদের মেদিনীপুরের ১৬০ বছরের পুরনো পৌরসভাটির নিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কয়েক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণেই ১৮টি ওয়ার্ড জলের তলায় চলে গিয়েছে। পূর্বতন সরকার পরিকল্পনাহীনভাবে কিছু নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। ৫টি মহানালা অসংরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে শহর প্লাবিত হয়ে মানুষের বাড়িতে জল ঢুকছে, এমনকি সাপ পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে। মেদিনীপুর শহরের এক লক্ষেরও বেশি মানুষ তিনদিন ধরে দুর্বিষহ যন্ত্রণায় ভুগছেন। তাই এই বিভাগের মন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, খড়্গপুর আইআইটি-কে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে মেদিনীপুর পৌরসভার এই নিকাশি সমস্যার সমাধান করা যায়, তার ব্যবস্থা নিন। সেই সঙ্গে মেদিনীপুর শহরের প্রবেশমুখ ধর্মা এলাকায় জাতীয় সড়ক ডুবে গিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, পূর্ত দফতর সেটিও খতিয়ে দেখুক।”