সিকিমের নামচি জেলার একটি নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১১ জন শ্রমিক রয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভিতরে মোট ২৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং পাঞ্জাবের বাসিন্দারাও রয়েছেন।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে জলপাইগুড়ির ন'জন শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মেটেলির ছ'জন এবং নাগরাকাটার তিনজন। এছাড়া আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ও মাদারিহাটের দুই শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ হয়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ১২টি দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নামচির সমরদুঙ এলাকায় এনএইচপিসির তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এনএইচপিসির প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, টানেলের ভিতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে) উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে সিকিম সরকার।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী বীণাপানি জানিয়েছেন, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং জেলার একটি পুলিশ দল ইতিমধ্যেই সিকিমে পৌঁছেছে। নামচির পুলিশ সুপার সোনম ডোলমা ভুটিয়া বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।