পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূলের দুই শিবিরের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে মঙ্গলবার সরগরম হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগী বিদ্রোহী শিবিরকে 'বাল্ব' বলে কটাক্ষ করেন। অন্যদিকে, মেয়ো রোডের সভা থেকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা 'সাইড রোলের অভিনেতা' বলে তোপ দাগেন। এদিন মূল বিরোধী দলকে আক্রমণের চেয়ে তৃণমূলের এই দুই শিবিরের একে অপরকে দোষারোপ করার পালাই বেশি নজরে এসেছে।

ক্যাথিড্রাল রোডের মঞ্চ থেকে দলত্যাগীদের 'গদ্দার ও বেইমান' আখ্যা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পাঁচ বা দশ ওয়াটের বাল্ব এখন নিজেদের হ্যালোজেন বলে মনে করছে।

কিন্তু এই শক্তির প্রকৃত উৎস হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মায়ের সঙ্গে বেইমানি করলে ঈশ্বরও কাউকে ক্ষমা করেন না। মেয়ো রোডের সভার ভিড়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, গ্রামে জেসিবি দিয়ে মাটি কাটার সময় এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের জমায়েত হয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূলের আসল শিকড় এবং কর্মীদের আপসহীন লড়াইয়ের ফলেই দল আজ বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে।

 দলত্যাগীদের কারণে দল আরও শক্তিশালী হবে বলে দাবি করে তিনি বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দেন।

অভিষেক স্পষ্ট জানান, তাঁর মেরুদণ্ড বিক্রির জন্য নয়। যাঁরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও জোড়াফুল প্রতীকে জিতে এখন এনডিএ-কে সমর্থন করার কথা বলছেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কিছুতেই ক্ষমা করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, মেয়ো রোডের সভা থেকে একুশে জুলাইয়ের এতদিনের আয়োজন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শহিদ দিবসের পবিত্র মঞ্চকে এতদিন নিছক রিয়্যালিটি শোয়ের রূপ দেওয়া হয়েছিল। যেখানে শহিদ পরিবার এবং দলের সাংসদ-বিধায়কদের বদলে টিভি সিরিয়ালের পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতারা মঞ্চ আলো করে বসে থাকতেন। দলের অভ্যন্তরীণ কর্মপদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, সংসদে কী প্রশ্ন করা হবে তা ক্যামাক স্ট্রিট থেকে ঠিক করে দেওয়া হত, যা অত্যন্ত দমবন্ধ করা এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। দলের টাকায় চার্টার্ড ফ্লাইট কিনে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর মতো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেও তিনি এর সঙ্গে জড়িতদের কড়া সমালোচনা করেন এবং তাঁদের এর দায় নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।