পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গি প্রতিরোধে এক যুগান্তকারী মাইলফলক অতিক্রম করল ভারত। দেশের প্রথম ডেঙ্গি প্রতিষেধক হিসেবে জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা তাকেডার তৈরি ‘কিউডেঙ্গা’ টিকাকে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিল সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)। গত দুই দশকে দেশে যে হারে ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই টিকার ছাড়পত্র একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা-সহ বিশ্বের ৪৩টির বেশি দেশে ইতিমধ্যেই এই টিকা ছাড়পত্র পেয়েছে। এবার সেই তালিকায় ভারতের নামও যুক্ত হল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা। সদ্য ফেলে আসা ২০২৫ সালে দেশে ১ লক্ষ ১৩ হাজার মানুষ এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২৩ সালের সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছিল ৪৮৫ জনের, যদিও বেসরকারি মতে সেই সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মশার ব্যাপক বংশবৃদ্ধির ফলেই ভারতে ডেঙ্গি এক বিপজ্জনক মরশুমি জনস্বাস্থ্য সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই রোগের মোকাবিলা করা হত।

কিন্তু এবার প্রতিরোধের নতুন অস্ত্র হিসেবে যুক্ত হল এই লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড টেট্রাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন। এটি ডেঙ্গি ভাইরাসের প্রধান চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম। এর আগে বাজারে আসা ডেংভ্যাক্সিয়া টিকার ক্ষেত্রে গ্রহীতার শরীরে আগে ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছিল কি না, তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে কিউডেঙ্গার ক্ষেত্রে এমন কোনও পূর্বশর্ত না থাকায় গণ-টিকাকরণের ক্ষেত্রে এটি বেশ সুবিধাজনক।

ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (ডিসিজিআই) নির্দেশিকা অনুসারে, চার থেকে ষাট বছর বয়সি যে কোনও সুস্থ মানুষ এই টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।

আগে কখনও ডেঙ্গি হয়ে থাকলেও এই টিকা নিতে কোনও বাধা নেই। চামড়ার নীচে বা সাবকিউটেনিয়াস ইঞ্জেকশন হিসেবে মোট দু’টি ডোজে এই টিকা দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ডোজ নেওয়ার ঠিক তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজটি নিতে হবে। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে বিশ্বব্যাপী ২০ হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরের ওপর চালানো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থেকে জানা গিয়েছে যে, ডেঙ্গির কারণে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমাতে এই টিকা ৮৪.১ শতাংশ কার্যকর। লক্ষণযুক্ত ডেঙ্গির ক্ষেত্রে এর সামগ্রিক কার্যকারিতা প্রায় ৬১ শতাংশ। ট্রায়ালের তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর ডেঙ্গি সংক্রমণের হাত থেকে সাত বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে কিউডেঙ্গা।

তবে ভারতের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য এই টিকার দাম ঠিক কত হতে পারে, সে বিষয়ে প্রস্তুতকারক সংস্থা তাকেডা বা সিডিএসসিও-র তরফে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।