পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কুয়ানটাম টেকনোলজিতে ডেঙ্গুর জীবাণু চিহ্নিত করবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ন্যানো টোকনোলজি-গবেষক-অধ্যাপক সৌরভ সরকার জানান, মশার কামড় থেকে রোগ নির্ণয় পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় ৪-৭ দিন। অনেক ক্ষেত্রেই এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা যায় না। ডেঙ্গুর জীবাণু যতক্ষণ না শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে ভালো মতো, ততক্ষণ তাকে শনাক্ত করাই যায় না। ফলে রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি হয় অনেক ক্ষেত্রে। মশা কামড়ালেই বোঝা যাবে রক্তে ডেঙ্গুর জীবাণু ঢুকল কি না, তা জানা যাবে। পাশাপাশি রোগ নির্ণয় করতে ডেঙ্গুর ভাইরাস যাতে তাড়াতাড়ি চিহ্নিত করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের বক্তব্য, মূলত কোয়ান্টাম বায়ো সেন্সর তৈরি করতেই চাইছেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা অর্থ সাহায্য পেয়েছেন। অধ্যাপক জানান, সম্প্রতি ওই অর্থ পাওয়া গিয়েছে। সেই মতো কাজও শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে এই কাজের জন্য পেটেন্টও মিলেছে। তাঁদের বক্তব্য, মশা কামড়ানোর কয়েক দিন পরে জ্বর আসে। অর্থাৎ, তখন শরীরে ভাইরাস ক্রিয়া করতে শুরু করেছে। তারও প্রায় দু’দিন পরে ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। কারণ, রক্তের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাইরাস না পাওয়া গেলে তাকে চেনা যায় না। ততক্ষণে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে।নয়া এই গবেষণা অনুসারে, যে ডিভাইস তৈরির চেষ্টা চলছে, সেখানে মশা কামড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেনে নেওয়া যাবে রক্তে ডেঙ্গুর ভাইরাস ঢুকেছে কি না। ফলে জ্বর আসার আগেই ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি বুঝে ফেলা সম্ভব হবে। সেই মতো প্রতিরোধক ব্যবস্থা করা যাবে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা কমবে বলে মনে করেন অধ্যাপক। কেন্দ্রীয় সহযোগিতায় দ্রুত এই কাজ শেষ করতে চান তাঁরা। আগামী এক বছরের মধ্যে ওই ডিভাইস তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু ডেঙ্গু নয়। অন্য যে কোনও ভাইরাস যাতে চিহ্নিত করা যায় ওই ডিভাইস দিয়ে, তা নিয়ে পরবর্তীকালে গবেষণা করবেন তাঁরা।
অন্যদিকে, ডেঙ্গুর ‘ডেঞ্জার জোন’ আগাম জানা যাবে, এই নিয়ে নয়া মডেল তৈরির গবেষণা করছে আইআইটি 'ড়গপুর। গবেষকদের বক্তব্য, ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আগেভাগেই জানাবে ‘ক্লাইমেড’ নামে একটি বিশেষ গাণিতিক মডেল। প্রতিদিনের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, জনঘনত্ব ও মশার জীবনচক্র বিশ্লেষণ করে তথ্য দেবে মডেলটি। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি বা আইআইটি খড়গপুরের ‘সেন্টার ফর ওশান, রিভার, অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ল্যান্ড সায়েন্সেস’ (কোরাল)-এর অধ্যাপক এ. এন. ভি. সত্যনারায়ণ এবং তাঁর পিএইচডি গবেষক পি. এস. হরিপ্রসাদ যৌথভাবে তৈরি করেছেন ‘ক্লাইমেড’ নামে এই বিশেষ মডেলটি। জনস্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে এই মডেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। শুধুমাত্র আক্রান্তের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে, পরিবেশগত পরিস্থিতি কখন ডেঙ্গুর অনুকূল হয়ে উঠছে, তা আগে থেকেই চিহ্নিত করবে ক্লাইমেড। এর ফলে স্থানীয় স্তরে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারির কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। মডেলটি মূলত সম্ভাব্য আক্রান্তের সংখ্যা এবং সংক্রমণের চাপের ওপর ভিত্তি করে দু’টি সূচক প্রদান করে, যা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে জাতীয় থেকে শুরু করে জেলা বা ব্লক স্তরেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।