এক সময় যে জমিতে প্রচলিত ফসল চাষ করে বছরে খুব বেশি হলে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হতো, সেই জমিই এখন বহু কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ল্যাভেন্ডার চাষের প্রসারের ফলে প্রতি হেক্টরে কৃষকদের আয় বেড়ে কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। এই পরিবর্তনকে স্থানীয়রা বলছেন ‘বেগুনি বিপ্লব’।
সুগন্ধি ল্যাভেন্ডার গাছ মূলত এর মূল্যবান তেলের জন্য চাষ করা হয়। এই তেল সুগন্ধি, প্রসাধনী, ওষুধ এবং সুগন্ধ-চিকিৎসা শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন:
জম্মুর ভদ্রওয়াহ অঞ্চল থেকে এই চাষের সূচনা হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা পরিষদের অধীন ভারতীয় সমন্বিত চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেয়। বর্তমানে ভদ্রওয়াহকে ভারতের ‘ল্যাভেন্ডার রাজধানী’ বলা হয়। সেখান থেকে শুরু হয়ে এখন কাশ্মীর উপত্যকার পুলওয়ামা, অনন্তনাগ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজ্যে ৪১১ হেক্টরেরও বেশি জমিতে এখন ল্যাভেন্ডার চাষ হচ্ছে।দক্ষিণ কাশ্মীরের বিজবেহারার সিরহামা ল্যাভেন্ডার খামার এখন এই চাষের অন্যতম কেন্দ্র। সম্প্রতি সেখানে ল্যাভেন্ডার উৎসবও পালিত হয়েছে। কৃষক ও শ্রমিকেরা বেগুনি ফুল সংগ্রহ করে তেল তৈরির কাজে ব্যস্ত।
আরও পড়ুন:
কৃষি দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় পাঁচ কুইন্টাল তাজা ল্যাভেন্ডার ফুল থেকে প্রায় পাঁচ লিটার উচ্চমানের তেল পাওয়া যায়।
বাজারে এই তেলের দাম বেশ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় পাতন কেন্দ্র থাকায় ফুল অন্যত্র পাঠানোর খরচও কমেছে।আরও পড়ুন:
ল্যাভেন্ডার চাষে সেচের প্রয়োজন তুলনামূলক কম। অনুর্বর বা কম উর্বর জমিতেও এই ফসল ভালো হয়। ফলে এটি কৃষকদের কাছে লাভজনক বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। শুধু তেল নয়, ল্যাভেন্ডার থেকে সাবান, সুগন্ধি, ভেষজ চা এবং অন্যান্য পণ্যও তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া ফুল ফোটার মরসুমে বেগুনি রঙে ঢাকা বিস্তীর্ণ ক্ষেত দেখতে পর্যটকদের ভিড় জমছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশা, ল্যাভেন্ডার চাষের বিস্তার ভবিষ্যতে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করবে এবং কাশ্মীরের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।