পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশের অন্যান্য প্রান্তের পর এবার খাস কলকাতাতেও মিলবে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ‘ই-২০’। সম্প্রতি গাড়ির ইঞ্জিন খারাপ হওয়া এবং মাইলেজ কমে যাওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল এই মিশ্রিত জ্বালানি ঘিরে। দেশজুড়ে তৈরি হওয়া সেই সমালোচনার মাঝেই কলকাতায় এই নতুন জ্বালানি সরবরাহের কথা ঘোষণা করল তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল।
শহরের কোথায় মিলবে এই জ্বালানি?
কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ান অয়েলের আধিকারিক কুশল বাজোরিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে শহরের পাঁচটি জায়গায় মিলবে এই পরিষেবা।
ইথানল ব্যবহারের সুবিধা ও সরকারি লক্ষ্য
ইথানল মূলত আখ ও ভুট্টার মতো কৃষিজাত পণ্য থেকে তৈরি হওয়া এক প্রকার জৈব জ্বালানি, যা সাধারণ পেট্রলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি অনুযায়ী এর একাধিক সুবিধা রয়েছে:
আমদানি নির্ভরতা হ্রাস: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমানো। ইথানল ব্যবহারে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, আগামী দিনে পেট্রলের বদলে সম্পূর্ণ ইথানল নির্ভর যান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার।
পরিসংখ্যান ও ইন্ডিয়ান অয়েলের দাবি
উদ্যোগপতি দিলীপ মেহরা পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন, কলকাতায় ইথানল ব্যবহারের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০২৩ সাল: ৩০ শতাংশ ইথানল ব্যবহার হয়েছিল। ২০২৫ সাল: ব্যবহারের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। ইন্ডিয়ান অয়েল এটিকে ৯৫ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
গাড়ির ক্ষতি হওয়া সংক্রান্ত গ্রাহকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েলের কর্তাদের স্পষ্ট দাবি, বাজারের সমস্ত গাড়িই বর্তমানে ‘ই-২০’ জ্বালানি ব্যবহারের উপযুক্ত করে তৈরি। তাই এই মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের কোনও ক্ষতি বা সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অভিযোগ বনাম আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, ইথানলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাইলেজ তলানিতে ঠেকছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেককে বাধ্য হয়ে নতুন গাড়ি কিনতে হচ্ছে। তবে তেল সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে এই অভিযোগ খণ্ডন করেছে। তাদের মতে, চিন, আমেরিকা ও ব্রাজিলের মতো উন্নত দেশগুলিতে ইথানলের ব্যবহার আগেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিলে ৮০ শতাংশ এবং আমেরিকায় ৮৫ শতাংশ ইথানল নিয়মিত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এবার বিশ্বের সেই আধুনিক পথেই পা মেলাচ্ছে কলকাতা।