সেখ কুতুবউদ্দিনঃ স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দীর একমাত্র পুত্র হাসান মাসুদ সোহরাওয়ার্দী ১৭ বছর  বয়সে ১৯২৮ সালে যক্ষ্মা রোগে মারা যান। স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী তাঁর একমাত্র ছেলে হাসান মাসুদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতিতে ১৯৩৭ সালে মানুষের সেবার জন্য যক্ষ্মা-বিরোধী ক্লিনিক  চালু করেছিলেন সেভেন পয়েন্টে থাকা বর্তমানে ইসলামিয়া মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটে। এখান থেকেই তৎকালীন সময়ে বহু রোগীর চিকিৎসা পরিষেবা পেতেন। এই নিয়ে একটি ফলকও পার্ক সার্কাসের ইসলামিয়া ইন্সটিটিউটের দেওয়ালে খোদাই করা ছিল। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য  ছিলেন স্যার ড. হাসান সোহরাওয়ার্দী। ১৯৪৫ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অধ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলেন। পাশাপাশি ভারতীয় পূর্ব রেলে স্বাস্থ্য আধিকারিকের পদেও ছিলেন তিনি। সেই সময় রেলওয়ে স্বাস্থ্য ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করেন।

ইংল্যান্ডে ইস্ট লন্ডন মসজিদ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। 

পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে-এর ইসলামিয়া মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী পুরাতন  এই বিল্ডিং ভেঙে বহুতল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেভেন পয়েন্টের পুরাতন বিল্ডিং ভাঙার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকেই ভাঙার কাজ সম্পন্ন হবে। রোগী পরিষেবার সুবিধার জন্য ১৫ কাঠা এই জায়গায় তৈরি করা হবে জি প্লাস সেভেন বিল্ডিং (৮-তলা)। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য থাকবে আন্ডার গ্রাউন্ড। বিল্ডিং ভাঙা সম্পন্নের পরেই  নয়া ভবন তৈরির কাজ শুরু হবে। বিল্ডিং নির্মাণ শেষ হলেই ২ বছরের মধ্যে এ'ানে চিকিৎসা পরিষেবা শুরু হবে।

 

 হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দী এবং তাঁর পুত্র হাসান মাসুদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতিতে ফলক নির্মাণ সহ অন্যান্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।  

 এই হাসপাতালের নয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে পরিচালন সমিতির তরফে আমিরউদ্দিন ববি আগেই জানিয়েছেন, হাসপাতালের পরিষেবা বাড়ানোর জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জি প্লাস সেভেন বিল্ডিং  তৈরি করা হবে। বিল্ডিং তৈরির কাজ সম্পন্ন হলে রোগী পরিষেবার পরিসর বাড়বে এখানে। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ইতিমধ্যে জি প্লাস সেভেন প্ল্যানের অনুমোদন মিলেছে। ১৫ কাঠা এই জমির উপর আন্ডার গ্রাউন্ড, গাড়ি পার্কিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। পুরো কাজ ইসলামিয়া হাসপাতালের সভাপতি ও কলকাতা পুরসভার  প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে। 

 ইসতিয়াক আহমেদ রাজু বলেন, পার্ক  সার্কাসের এই হাসপাতালটি ভালো জায়গায় রয়েছে।

বিশিষ্ট ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছেন। এই হাসপাতালের নতুন ভবন গড়ে উঠলে আরও বেশি মানুষ পরিষেবা পাবেন। সকলের সহযোগিতায় এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। 

৭৩ নম্বর সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ইসলামিয়া হাসপাতালের নব নির্মিত ভবনে মেডিসিন, আই, সার্জারি, ডার্মাটোলজি, ইউরোলজি, ইএনটি’ সহ বিভিন্ন বিভাগে ইন্ডোর-আউটডোরের চিকিৎসা পরিষেবা সফলভাবে হচ্ছে।  পাশাপাশি ইসলামিয়া হাসপাতালে নার্সিং কোর্স চালু রয়েছে। ইসলামিয়া হাসপাতাল কলকাতার অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।এদিকে ইসলামিয়া হাসপাতালের উদ্যোগে ভাঙড়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জমি না মেলার ফলে সেখানে এখন আপাতত মেডিক্যাল কলেজ গড়ার কাজ স্থগিত রয়েছে। তবে পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্টে সকলের সহযোগিতায় বিল্ডিং তৈরির কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।