পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
তারান্নুম সুলতানা মির  রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন। পরপর তিনবারের জেলা পরিষদের সদস্য হওয়া তারান্নুম সামলেছেন বিভিন্ন দায়িত্ব। সামলেছেন কৃষি কর্মাধ্যক্ষর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। মানুষের ভালবাসা নিয়ে তৃতীয়বার তারান্নুম জেলা পরিষদের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করার পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব আর দেরি না করে সভাধিপতির মতো গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিল ।
তার  বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয় ।

শেষ   পর্যন্ত   গৃহীত হল  সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব। ৩৭ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ৩১ জনই সভাধিপতির বিরুদ্ধে ভোট দেন ( ৫২ সদস্যের নদিয়া জেলা পরিষদে ৪৬টি আসনই তৃণমূলের)। তাঁদের অভিযোগ জেলা সভাধিপতি দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদে সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফাভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালনা করছিলেন। তাতেই জেলাসভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশ অবশ্য জানিয়েছে তাঁদের এই সিদ্ধান্ত দলের বিরুদ্ধে নয়।
তারান্নুম সুলতানা মীর মহুয়া মৈত্র  অনুগামী  ছিলেন  বলে প্রচার ।  
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জুন। সেই দিন জেলা পরিষদের মোট ৫২ জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূলের ২৭ জন সদস্য সভাধিপতি তারান্নুমের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের তারকদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সভাকক্ষে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, সভাধিপতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনাস্থার পক্ষে সমর্থনকারী সদস্যের সংখ্যা ২৭ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১-এ। সভায় উপস্থিত ৩৭ জন সদস্যের মধ্যে ৩১ জনই সভাধিপতির অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। উপস্থিত বিজেপির ৬ জন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন। ভোটাভুটির পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সজলকুমার বিশ্বাস ও একাধিক বিক্ষুব্ধ কর্মাধ্যক্ষ সভাধিপতির বিরুদ্ধে একনায়কতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তোলেন।তবে এই নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এই সংকট নিরসনে কৃষ্ণনগরের সাংসদ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।নতুন সভাধিপতি  কে হবেন  তা এখনও ঠিক হয়নি।