পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সম্প্রতি পাস হওয়া 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬' এবং 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' নিয়ে গুরুতর আইনি ত্রুটি ও সাংবিধানিক জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন রনিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জুলফিকার আলী। রাজ্যপালের কাছে পাঠানো এক পত্রে তিনি দাবি করেছেন, এই বিল দুটি বর্তমান রূপে আইনে পরিণত হলে রাজ্যের নিরীহ সাধারণ মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকরা প্রশাসনের একাংশের অপব্যবহারের শিকার হতে পারেন।
আরও পড়ুন:
বিধায়কের অভিযোগ, বিল নং ১৪ বা গুণ্ডা দমন আইনের ৫ ও ৯ নম্বর ধারায় কাউকে আটকের পর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করেই ২১ দিন পর্যন্ত বন্দি রাখা যাবে, যা সাধারণ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪ ঘণ্টার নিয়মের পরিপন্থী। এছাড়া, অ্যাডভাইজরি বোর্ডের মতামতের জন্য দীর্ঘ ৯ সপ্তাহ বা ৬৩ দিন সময় রাখা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক ন্যায়ের পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের 'আব্দুল লতিফ বনাম উত্তরপ্রদেশ সরকার' (১৯৮৬) মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের ক্ষেত্রে প্রতিটি দিনের বিলম্ব নাগরিকের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
পাশাপাশি, আটক ব্যক্তিকে আইনজীবী রাখার সুযোগ না দেওয়াকে সংবিধানের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারের বিরোধী বলে তিনি দাবি করেছেন।আরও পড়ুন:
বিল নং ১৩ বা জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনের ক্ষেত্রেও একাধিক আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিধায়কের মতে, এই বিলের ১৫-পি এবং ১৫-আর ধারায় ক্লেমস কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, যা 'এল. চন্দ্র কুমার বনাম ভারত সরকার' (১৯৯৭) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের নির্দেশনার পরিপন্থী। এছাড়া, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ১৫-এইচ(৫) ধারার অপব্যবহার করে নির্দোষের সম্পত্তি ক্রোকের আশঙ্কা এবং ১৫-ও ধারার অধীনে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দায়ভার আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর ফলে কৃষক ও ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীরা আতঙ্কিত বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন:
পরিশেষে, রাজ্যপালকে রাজ্যের সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে সম্বোধন করে বিধায়ক জুলফিকার আলী আর্জি জানিয়েছেন, বিল দুটিতে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদানের পূর্বে যেন এগুলোর মারাত্মক আইনি ত্রুটি পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনাবলীর আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।