পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে কর্মী-সমর্থকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে এবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল। এই ঘটনায় কালীঘাট ও নিউটাউন থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সাংসদ দোলা সেন অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অরূপ রায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং বিপ্লব মিত্রের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে বিষয়টি আইন এবং নির্বাচন কমিশনের আওতায় রয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।সম্প্রতি নিউটাউনের একটি হোটেলে তথাকথিত বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করেছিল ঋতব্রত শিবির। সেখানে কয়েকজন বিধায়ক ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করা হয়।

তবে ওই কমিটিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না থাকায় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, বিদ্রোহী শিবিরের এই কার্যকলাপের পেছনে আরও কিছু ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। সেই কারণেই নিউটাউন থানার কাছে ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। দলের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যদিও ওই পদে তাঁকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করা হয়নি।

একই অভিযোগ উঠেছে জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধেও। তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বৈঠক ডাকা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

দোলা সেনের দাবি, একটি সমান্তরাল সংগঠন গড়ে তুলে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এই ধরনের পদক্ষেপে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দলের নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন দোলা। তিনি অভিযোগ করেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে, সেই খরচের উৎস কী, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন কোন মাধ্যমে এই বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়ে দ্রুত এফআইআর করে বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।