পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম পালিত হচ্ছে ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবস। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবার একেবারেই ভিন্ন। দলের অন্দরের ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শহরের বুকে। ধর্মতলা চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় এবার তিনটি পৃথক সভার আয়োজন করা হয়েছে।

একদিকে তারামণ্ডলের সামনে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জমায়েত করেছে ‘আসল’ তৃণমূল। এর পাশাপাশি শহিদ মিনারে পৃথকভাবে সভা করছে কংগ্রেসও।

শহরের বুকে একসঙ্গে তিনটি বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও তিলোত্তমায় একুশে জুলাইয়ের সেই চেনা ভিড়ের লেশমাত্র নেই। আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক ছন্দে রয়েছে শহর কলকাতা।

সকাল থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে অন্যান্য বছরের মতো কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েনি। শহরের মেট্রো স্টেশন বা ফেরিঘাটগুলির চিত্রও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এমনকী খাস ধর্মতলা চত্বরেও সেই পরিচিত জনসমুদ্রের দেখা মেলেনি। শুধু তাই নয়, গোটা শহর জুড়েই চেনা ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় তোরণ বা পতাকার চূড়ান্ত অভাব চোখে পড়ার মতো।
অন্যান্য বছর দূরদূরান্তের কর্মীদের বিশ্রামের জন্য শহরের মোড়ে মোড়ে যে সমস্ত অভ্যর্থনা মঞ্চ তৈরি করা হতো, এবার তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শহিদ দিবস মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়ে এসেছে। গত বছর পর্যন্তও ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সুবিশাল মঞ্চ বেঁধে এই দিনটি পালন করা হতো। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে দিন দুয়েক আগে থেকেই হাজার হাজার মানুষ এসে ভিড় জমাতেন কলকাতায়। ধর্মতলার দিকে মানুষের ঢল, মিছিল এবং কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে গমগম করত হাওড়া এবং শিয়ালদহের মতো প্রান্তিক স্টেশনগুলি। কিন্তু এবারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই উৎসব ও উন্মাদনার বদলে গোটা শহর জুড়েই এক চরম শূন্যতা বিরাজ করছে।