পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের একাংশ তাঁর নেতৃত্ব মানতে নারাজ হয়ে ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদ্রোহী শিবিরকে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, দলত্যাগীদের মধ্যে একজনও যদি ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন, তবে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। একই সঙ্গে চরম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই দলত্যাগীদের কেউই আর পুরনো দলে ফিরে আসবেন না।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির জন্য দলের অনেক নেতাই সরাসরি অভিষেককে দায়ী করে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, আইপ্যাকের পরামর্শ মতো কাজ করতে গিয়েই বহু আসনে দলকে হারের মুখ দেখতে হয়েছে। এই ক্ষোভ ও মমতার প্রতি অভিমান থেকেই অনেক সাংসদ নতুন দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং পরিষদীয় দলের একটি বড় অংশ ‘ঋতব্রত’ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। অনুব্রত মণ্ডল বা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পুরনো নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, অভিষেক দলে থাকলে তাঁরা থাকবেন না। 

শনিবার অভিষেকের এই বক্তব্যকে কার্যত সেই পুরনো নেতাদের প্রতি পাল্টা আক্রমণ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন দলত্যাগীদের ফেরানোর বিষয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, দলত্যাগীদের কাউকে দলে ফেরানো হলে তিনি নিজেই দল ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন।

অন্যদিকে, শনিবার সকালেই আমতলায় অভিষেকের একটি পার্টি অফিস বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয় প্রশাসন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেন। অভিষেক জানান, উপযুক্ত মূল্য দিয়ে জায়গাটি কিনে সেখানে পার্টি অফিস তৈরি করা হয়েছিল এবং তাঁর কাছে এর সমস্ত বৈধ নথিপত্র মজুত রয়েছে। নিজের পার্টি অফিসকে মন্দিরের সমতুল্য বলে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সহ প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে যাবেন এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হবেন। কোনোভাবেই যে তিনি এই ঘটনার শেষ না দেখে ছাড়বেন না, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।