জাপানের রাজপরিবারে উত্তরাধিকার সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল দেশটির পার্লামেন্ট। দীর্ঘদিন ধরে রাজপরিবারের সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে রাজকীয় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও, নারীদের সিংহাসনে বসার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। ফলে বর্তমান সম্রাটের একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকো এখনও উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
শুক্রবার জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সংশোধনী বিলটি অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে এটি নিম্নকক্ষেও পাস হয়।

আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন আইন কার্যকর হবে। ১৯৪৯ সালের পর এই প্রথম ‘ইম্পেরিয়াল হাউস ল’-এর মূল কাঠামোয় সংশোধন আনা হলো, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে জাপানি রাজতন্ত্রের অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন আইনে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী দূর সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়দের রাজপরিবারে দত্তক নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজপরিবারের নারী সদস্যরা সাধারণ নাগরিককে বিয়ে করলেও আর রাজকীয় মর্যাদা বা উপাধি হারাবেন না। আগে এমন বিয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের রাজপরিবার ছাড়তে হতো।
২০২১ সালে নিজের সহপাঠীকে বিয়ে করার পর প্রিন্সেস মাকো সেই নিয়মের কারণেই রাজপরিবার ত্যাগ করেছিলেন।
তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—নারীদের সিংহাসনে বসার অধিকার—এই সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও প্রিন্সেস আইকো এখনও জাপানের সম্রাট হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হচ্ছেন না।
প্রায় ২,৬০০ বছরের ইতিহাস বহনকারী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ধারাবাহিক রাজতন্ত্র হিসেবে পরিচিত জাপানের রাজপরিবারে বর্তমানে উত্তরাধিকার তালিকায় রয়েছেন সম্রাটের ছোট ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো, তাঁর ছেলে প্রিন্স হিসাহিতো এবং সম্রাটের ৯০ বছর বয়সী চাচা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রিন্স হিসাহিতোর ভবিষ্যতে কোনো পুত্রসন্তান না হলে রাজবংশের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজপরিবারের বাইরে চলে যাওয়া ১১টি সাবেক রাজকীয় শাখার পুরুষ বংশধরদের আবার রাজপরিবারে দত্তক নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নারী উত্তরাধিকার প্রশ্নে সরকার আপাতত কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটেনি, যদিও এ বিষয়ে জনমত দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের পক্ষে।