পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আলিপুর আদালতের এক বিচারকের উদ্দেশে কুমন্তব্য এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের তহবিল ও প্রতীক ব্যবহার সংক্রান্ত একটি মামলায় ওই বিচারক একতরফা ভাবে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই আইনজীবীরা বিচারকের উপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বিচার করে ওই বিচারক ইতিমধ্যেই জেলা জজের দ্বারস্থ হয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।

তৃণমূলের অন্দরে চলা দুই শিবিরের কোন্দল সম্প্রতি আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। দলের সম্পত্তি ও তহবিল কালীঘাট শিবির অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে পারে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে আলিপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই এই মামলা করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই বিচারক অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কালীঘাট শিবিরের কোনও নেতাই আপাতত নিজেদের দলের পদাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।

পাশাপাশি, তাঁরা দলের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা বা সম্পত্তি ও নথি সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না। মমতাপন্থী আইনজীবীদের অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়ার আগে কালীঘাট শিবিরের কোনও বক্তব্যই আদালতে শোনা হয়নি।

এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে আগামী ৬ অগস্ট ধার্য করেছিল আদালত। কিন্তু মমতাপন্থী আইনজীবীরা সেই শুনানির দিন এগিয়ে আনার জন্য আদালতে আবেদন জানান এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই বিক্ষোভ চলাকালীনই বিচারকের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।