পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন তাঁর একসময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। জানা গিয়েছে, তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁকে ‘আসল তৃণমূল’-এর বীরভূম জেলার সভাপতি করা হচ্ছে। শুধু অনুব্রত একাই নন, বীরভূমের আরও চার প্রভাবশালী নেতা কাজল শেখ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিংহ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এর ফলে কার্যত গোটা বীরভূম জেলাই ঋতব্রত শিবিরের দখলে চলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। দলবদলের এই জল্পনা প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে জানান যে, তাঁর জ্বর এসেছে এবং আগামিকাল তিনি কলকাতা যেতে পারেন।

 দল দু'ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর থেকেই জল্পনা ছিল যে বীরভূমের ‘বাঘ’ খ্যাত অনুব্রত কোন দিকে পা বাড়াবেন। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ঋতব্রত শিবিরেই যোগ দিলেন। অন্যদিকে, অনুব্রতর পাশাপাশি বীরভূমের যে চার নেতা ওই শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই ‘আসল তৃণমূল’-এর জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য পদ পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, তৃণমূল আমলে গরু পাচার মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি জেলে যাওয়ার কিছুদিন পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বীরভূম জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেন।

জেলার দায়িত্ব সামলাতে পরবর্তীতে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয় এবং অনুব্রতকে সেই কমিটির শুধু আহ্বায়ক করে রাখা হয়। তবে জেল থেকে ফেরার পর রাজনীতিতে কার্যত নিষ্ক্রিয়ই ছিলেন তিনি। এমনকি সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা যায়। ভোটের পর তিনি উষ্মা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, তাঁকে দলের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। সেই অভিমান ও ক্ষোভ থেকেই এবার অনুব্রত মণ্ডলের এই দলবদলের সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।