পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরব হয়েছে । বিজেপি যেখানে এই ঘটনাকে 'দৈববিচার' এবং সরকারের কড়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, সেখানে তৃণমূলের অন্দরেই বিষয়টি নিয়ে দু'রকম সুর শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস এনকাউন্টারের বদলে আইনি কাঠামোর উপর ভরসা রাখার দাবি জানিয়েছে। 
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। রাতের অন্ধকারে ঘটা এই এনকাউন্টারকে তিনি সরাসরি 'উত্তরপ্রদেশ মডেল'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, রাজ্যে এখন 'জঙ্গলরাজ' চলছে। পুলিশি অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বাঙালিরা যেন এই 'উত্তরপ্রদেশ ২.০' বা নতুন বাংলাকে স্বাগত জানায়। বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে সরকারের 'বুলডোজার' নীতির প্রসঙ্গ তুলেও তিনি এই বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন।
প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো মন্তব্য। আরজি কর কাণ্ডের পর অভিষেক নিজেই ধর্ষকদের এনকাউন্টার করার পক্ষে আইন আনার কথা বলেছিলেন। এমনকী, বিজেপির নবান্ন অভিযানে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার পরেও তিনি জানিয়েছিলেন, পুলিশের জায়গায় তিনি থাকলে হামলাকারীদের মাথায় গুলি করতেন।
জয়নগর কাণ্ডের পর সাংসদ দেবের গলাতেও একই সুর শোনা গিয়েছিল।
তবে মৈত্র সরকারের সমালোচনা করলেও,  ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীর নেত্রী তথা কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা কিন্তু সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, অভিযুক্ত যদি পালানোর চেষ্টা করে বা পুলিশের ওপর হামলা চালায়, তবে আত্মরক্ষার্থে এনকাউন্টারের আইনি অধিকার পুলিশের রয়েছে। তৃণমূল শাসনকালে আনা 'অপরাজিতা বিল'-এর কথা স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, ধর্ষকদের চরম শাস্তিই তাঁদের কাম্য। তবে সরকারের উপর ভরসা রাখলেও, এই ধরনের এনকাউন্টার যেন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে উদাহরণ হিসেবেই তুলে ধরছে বিজেপি।
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, এই এনকাউন্টার প্রমাণ করল যে রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে আর কোনও অপরাধী পার পাবে না। এর পাশাপাশি তিনি কামদুনি কাণ্ডের ফাইল নতুন করে খোলারও দাবি জানিয়েছেন। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পুলিশের এই এনকাউন্টারকে সরাসরি 'দৈববিচার' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এনকাউন্টার নীতির কড়া বিরোধিতা করে আইনি ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার পক্ষে সওয়াল করেছে কংগ্রেস। দলের ছাত্র সংগঠনের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে আদালতে প্রমাণ পেশ করতে হবে এবং বিচারব্যবস্থাই সাজা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসিও হতে পারে। এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন। জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার বারুইপুরে যান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও।