পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামী বা অনুদানের অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস। আজ, সোমবার ট্রাস্টের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই অর্থ তছরূপের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই ‘পাপ কাজের’ জন্য দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস লিখেছেন, "শ্রী রামলালা সরকারের মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত।

যে বা যারাই এই জঘন্য ও পাপ কাজ করেছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া উচিত। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি, তাঁরা যেন নিশ্চিত করেন যে—যাঁরা প্রভু রামের সাথে এই অন্যায় করেছে এবং কোটি কোটি ভক্তের মনে আঘাত দিয়েছে, তারা যেন উপযুক্ত বিচার পায়।" তাঁর কথায়, "এটি কোটি কোটি হিন্দুর গভীর বিশ্বাসের বিষয়। আমি এটাও অনুরোধ করব যে, প্রভু রামের নাম যেন কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়।
"

এই বিতর্কের আবহেই আজ বিকেল ৩টেয় অযোধ্যার রাম মন্দির চত্বরে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিইআইটি-এর তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর ট্রাস্টের ওপর যখন দেশজুড়ে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই বৈঠক ডাকা হলো।

সূত্রের খবর, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র ইতিমধ্যে যে ইস্তফা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মন্দিরের দানবাক্স বা ‘হুন্ডি’র টাকা গণনায় অনিয়ম নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্ট ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হবে। মন্দিরের প্রণামী সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন নিয়ম বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর তৈরি করা।