পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন বলিউড তারকা আমির খান। রবিবার মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অভিনেতার নিজস্ব বাসভবনে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে বেঙ্গালুরুর রূপচর্চা ও সাজসজ্জা উদ্যোক্তা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। আইনি নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমেই এই যুগল তাঁদের নতুন জীবনের সূচনা করেন।

পঁচিশ বছর আগে 'লাগান' সিনেমার সেটে প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা। কাকতালীয়ভাবে সেই সিনেমায় আমিরের চরিত্রের নাম ছিল ভুবন এবং তাঁর গ্রাম্য প্রেমিকা ছিলেন গৌরী। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সেই ভুবন যেন তাঁর বাস্তব জীবনের গৌরীকেই খুঁজে পেলেন। এই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন দুই পক্ষের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তাঁদের আগের পক্ষের সন্তানেরা।

বিদেশ থেকেও কিছু অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ আম্বানি সপরিবারে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া 'লাগান' ছবির পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর-সহ চলচ্চিত্র জগতের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন।
দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে একে অপরকে চিনলেও তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মাত্র দুই বছর আগে। চলতি বছরের জুন মাসে আমির নিজেই গৌরীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছিলেন। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ নিজের ষাটতম জন্মদিনে সংবাদ মাধ্যমের সামনে গৌরীকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে প্রথমবার পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। সেই সময় তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে 'লাগান' সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন যে ভুবন অবশেষে তার গৌরীকে পেয়ে গেছে।
ষাট বছর বয়সে এসে নতুন করে জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই বয়সে এমন একজন শান্ত ও স্থির মানুষকে পাশে পেয়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছেন। পাশাপাশি নিজের জীবনকে সুন্দর করে তোলার জন্য তিনি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেতা এর আগে দুবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক রীনা দত্তের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে ২০০২ সালে ভেঙে যায়। তাঁদের দুই সন্তান, অভিনেতা জুনাইদ ও নাট্য পরিচালক ইরা। এরপর ২০০৫ সালে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র পুত্র আজাদের জন্ম ২০১১ সালে।
২০২১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হলেও যৌথভাবেই তাঁরা সন্তানের দেখাশোনা করছেন।
অন্যদিকে, গৌরীরও তাঁর আগের পক্ষের একটি ছয় বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। তিনি বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। তাঁর মা রিতা স্প্র্যাট ছিলেন শহরের অন্যতম অভিজাত একটি বিউটি পার্লার কেন্দ্রের মালিক। তাঁর দাদু ফিলিপ স্প্র্যাট ছিলেন একজন ব্রিটিশ লেখক ও বুদ্ধিজীবী। ১৯২০-এর দশকে কমিউনিস্ট কর্মী হিসেবে ভারতে এলেও পরবর্তীতে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন এবং ঐতিহাসিক মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। গৌরী নিজে ব্লু মাউন্টেন স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং ২০০০-এর শুরুতে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর একটি হেয়ারড্রেসিং সংস্থার পরিচালক ও অংশীদার।