পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাযায় মানুষের কান্না দেখে ‘হতবাক’ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ‘ভেবেছিলেন মানুষ তাঁকে ঘৃণা করে।’ অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদকে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি চাইলে খামেনির জানাযায় উপস্থিত ‘সবাইকে নির্মূল’ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কারণ, এমনটি করলে ‘আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকত না।


ট্রাম্প আরও বলেন, খামেনির জানাযা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘জানাযা কার্যক্রম চলাকালে কোনো পক্ষই অপর পক্ষের ওপর হামলা চালাবে না।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাযায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে ঢল নামে হাজারো মানুষের। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হন লাখো শোকাতুর ইরানি। শুক্রবার তেহরানের অনুষ্ঠানস্থলে খামেনির ঐতিহ্যবাহী কালো পাগড়িসহ তাঁর লাশটি জাতীয় পতাকায় মুড়ে নিয়ে আসা হয়।
পাশে রাখা হয় হামলায় নিহত তাঁর স্বজনদের কফিন, যার মধ্যে পতাকায় মোড়ানো শিশু জাহরার ছোট কফিন এবং ফ্রেমে বাঁধানো ছবিও ছিল।
শুক্রবার বিকেল থেকে শত শত সাধারণ মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের বাইরে ভিড় করতে থাকেন। শনিবার সকালে মূল ফটক খুলে দেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে বিশাল এই চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। সমবেত জনতার হাতে ছিল শিয়া সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী প্রতিশোধের প্রতীক ‘লাল ব্যানার’। এ সময় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে সমবেত জনতা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘প্রতিশোধ চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।