পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ইরানের নিহত প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনির শেষকৃত্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। কিন্তু, সেই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। তার পরিবর্তে ভারতের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা।
আরও পড়ুন:
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ভারত সরকার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলী খামেনির মৃত্যু হয় বলে ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংঘাতের কারণে তাঁর দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ায় ইরান বহুদিনব্যাপী শোকযাপন ও দাফনের আয়োজন করছে। জানা যাচ্ছে, সূচী অনুযায়ী ৪ ও ৫ জুলাই রাজধানী তেহরানে বিদায় জানানো হবে খামেনিকে, এরপর জানাজার নামাজ এবং শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে। ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে বিশেষ ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে, যেটি খামেনির জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত সেখানে দাফন সম্পন্ন হবে।আরও পড়ুন:
যদিও কি কারণে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
অনেকের মতে, এর পিছনে রয়েছে বহুমুখী কূটনীতির এক খেলা। যুদ্ধ বিরতি হলেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদির নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও, আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মোদী তেহরানে গেলে ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। ফলে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে ভারত।আরও পড়ুন:
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই শোকানুষ্ঠান দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, এতে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন, এমনকি সংখ্যাটা ২ কোটিতেও পৌঁছাতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। ইরানের ইসলামি রেভেলিউশনারি গার্ড বাহিনীর তেহরান কমান্ডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানিয়েছেন, ৪ জুলাই ভোর ৬টা থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি প্রার্থনা প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠান চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। পরদিন সকালে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন:
সাম্ভব্য বিপুল জনসমাগমের কথা বিবেচনা করে রাজধানীজুড়ে একটি করিডোর ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ সেবাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা, নামাজের স্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।