বিশ্বকাপ ফুটবলে যেন নিজের নামেই নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন লিওনেল মেসি। একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি আবারও প্রমাণ করছেন, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর। মাঠে নামলেই নতুন কোনো কীর্তি যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করে।

জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির শুরুর একাদশে থাকার কথা ছিল না। তিনি বেঞ্চে বসেই ম্যাচ শুরু করেন। তবুও টেক্সাসের আর্লিংটন ডালাস স্টেডিয়ামে হাজির হওয়া সত্তর হাজারেরও বেশি দর্শকের চোখ ছিল শুধুই তাঁর দিকে।

ম্যাচের একত্রিশ মিনিটের মধ্যেই আর্জেন্টিনা দুই গোলে এগিয়ে যায়। প্রথমে গোল করেন জিওভানি লো সেলসো, এরপর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্তিনেস। পরে জর্ডানের হয়ে মাউসো তামারি একটি গোল শোধ করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত আসে ষাট মিনিটে, যখন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। তাঁর হাতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এরপরই বদলে যায় পুরো ম্যাচের আবহ।

আশি মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে আবারও দর্শকদের মুগ্ধ করেন মেসি। তাঁর বাঁ-পায়ের জাদুকরী শটে বল জর্ডানের জালে জড়িয়ে যায়। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।

এর আগেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন মেসি। আর জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়লেন তিনি।

এর আগে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ফ্রান্সের জুস ফঁতে এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহোর দখলে।

এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নিজের নামে নতুন অধ্যায় লিখলেন মেসি।

আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও মেক্সিকো গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে উঠেছে। ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তাদের সঙ্গে পরের পর্বে উঠেছে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়াও।

বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ড যেন এখন মেসির পায়ের কাছেই বন্দি। তিনি খেলছেন, গোল করছেন, আর ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়।