পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ যখন স্পেনের ফুটবলাররা আকাশের দিকে উঁচিয়ে ধরল, সেই আনন্দ শুধু স্পেনের মানুষের আনন্দ ছিল না। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সীমানা পেরিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের গাজার ধ্বংসস্তূপে খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের মনকেও ছুঁয়ে গেল। স্পেন ফুটবল বিশ্ব জয় করলো?
কিন্তু আপনারা কি জানেন কোন স্পেন? আমি সেই স্পেনের কথা বলছি যারা যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের পাশে বরাবরই ছিল, ইরানে হামলা করার জন্য তাদের আকাশ সীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে বিশ্বের ক্ষমতাশালী ডোনাল্ড ট্রাম্প কে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে স্পেন। সেই দেশ জিতল যে দেশের ফুটবলার ফিলিস্তিনিদের পতাকা উড়িয়ে খেলার আনন্দ উদযাপন করে। যে দেশটি ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল সেই দেশ এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ জিতল।
তবে এই ফুটবল বিশ্বকাপ জয় শুধু স্পেনের নয়, গাজাবাসীদেরও জয়? এভাবেই দেখছে কেউ কেউ।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন গাজা উপত্যকায় শরণার্থী শিবিরের বিভিন্ন ক্যাফেতে জড়ো হয়ে শত শত ফিলিস্তিনি খেলা দেখলেন।
বিশ্ব মিডিয়ার একটি প্রতিবেদনেও বলা হচ্ছে, চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্যে এবারের ফুটবল গাজার মানুষের জন্য কিছুক্ষণের হলেও স্বস্তির অনুভূতি এনে দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেন সরকারের সমর্থন মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুন:
স্পেনের বিভিন্ন ক্রিয়াব্যক্তিত্ব ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালকে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে সংহতি জানাতে দেখা গেছে, যা ফিলিস্তিনিদের মনে ভীষণভাবে প্রভাব পড়েছে।
আরও পড়ুন:
আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হ্যার্ভিয়ের মিলেইয়ের কট্টর ইজরাইল পন্থী অবস্থান আর্জেন্টিনার প্রতি বিরূপ ভাবনা তৈরি হওয়ার সাধারণ বিষয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে এই দেশটি।
আরও পড়ুন:
গাজার হত্যাযজ্ঞ চালানো ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন দিয়েছিল পাশাপাশি ইসরাইলের বন্ধু আমেরিকা।আর এই আমেরিকার মাটিতেই এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
স্পেনের জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি স্পেনের রাজা ষষ্ঠ লুই, ও প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সমাজ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে স্পেনের বিশ্বজয়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই হুল্লোড় ও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন গাজার মানুষ।
অনেকে বলছেন এই আনন্দ শুধু ফুটবলের আনন্দ নয়, ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রথম দিন থেকেই পাশে থাকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। কেউ কেউ বলছেন, বিশ্বকাপের এই খেলা ইসরাইলের জন্য শুধু একটা খেলা ছিল না, কারণ ইজরায়েল খোলাখুলি স্পেনের হার কামনা করেছিল। তবে মাঠে শেষ হাসি হাসলো ফিলিস্তিনিদের প্রিয় দল।আনন্দ বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস গাজা বাসিকে কিছুক্ষণের জন্য জীবনের মূল স্রোতে যেন ফিরিয়ে দিল। শুধু স্পেন নয় এই জয়ের ভাগীদার মনে হচ্ছে ফিলিস্তিনিরাও। গোলা বারুদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে এই ফিলিস্তিনিরা স্পেনের জয় কে নিজেদের জয় বলে মনে করবে এটাই স্বাভাবিক। স্পেন লিখল শিল্পের রূপকথা। তা পাঠ করল গাজাবাসী