পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দু'দিন। তবে এই ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক কমার বদলে ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এবার খেলার গণ্ডি পেরিয়ে এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন ফুটবল অনুরাগীদের একাংশ। এবার নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও সরাসরি ফিফার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।

তাঁর সাফ কথা, চলতি বিশ্বকাপে মিশরের সঙ্গে কার্যত ডাকাতি করা হয়েছে।
বুধবার নিউ ইয়র্কে রাস্তা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি সুকৌশলে এই প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। তিনি বলেন, নতুন ও চওড়া রাস্তা তৈরির অর্থ হল মানুষ দ্রুত বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারবেন বা সন্তানদের খেলায় সঙ্গ দিতে পারবেন। আর সেই আড্ডায় বন্ধুদের সঙ্গে এই বিষয়ে অনায়াসেই একমত হতে পারবেন যে, গত ম্যাচে মিশরের সঙ্গে সত্যিই ডাকাতি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর উপস্থিত জনতা হাসিতে ফেটে পড়েন।
মেয়রের এই বক্তব্য রেফারিং বিতর্কে নতুন করে ইন্ধন জোগাল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই হতাশাজনক হারের পরেই রেফারিকে কাঠগড়ায় তোলেন মহম্মদ সালাহরা। ইতিমধ্যেই মিশর ফুটবল সংস্থার সভাপতি হানি আবো রিদা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তাঁদের দাবি, ওই ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, চলতি বিশ্বকাপে লেতেক্সিয়ে ও তাঁর দলকে আর কোনও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ারও কড়া আর্জি জানিয়েছে মিশর।
সূত্রের খবর, মিশরের এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে ফিফা। তারা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করতে চলেছে। ওই ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চলতি বিশ্বকাপে তাঁর সামগ্রিক পারফরম্যান্স কেমন, তা আতশকাঁচের তলায় রেখে খতিয়ে দেখবেন ফিফার রেফারিং আধিকারিকরা। তাঁদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, ফ্রাঁসোয়াকে এই বিশ্বকাপে আর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না। তবে ফুটবল মহলের একাংশের মতে, অতীতে রেফারিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলেও সাধারণত নির্বাসনের মতো কড়া শাস্তির মুখে খুব একটা পড়তে হয়নি কাউকেই।