পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদানের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি এবং উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে একযোগে তীব্র নিশানা করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ কীর্তি আজাদ এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছেন, এই কেলেঙ্কারির নেপথ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম জড়িয়ে রয়েছে। একই সাথে এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে কেন এত বিলম্ব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতারা।

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তদন্তের পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যে রাম মন্দির ট্রাস্টের নজরদারিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি হয়েছে, সেই ট্রাস্টের অধীনেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি কাজ করছে। মহুয়া মৈত্র বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, "এই তদন্তের অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়া হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রধান সচিব সঞ্জয় প্রসাদের কাছে।

অথচ, এই সঞ্জয় প্রসাদ নিজেই কিন্তু ওই বিতর্কিত রাম মন্দির ট্রাস্টের একজন অন্যতম সদস্য! অর্থাৎ যিনি অভিযুক্ত, তিনিই আবার তদন্তের নিয়ন্ত্রক। এর চেয়ে বড় রসিকতা আর কী হতে পারে?" 

তৃণমূল সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, যখন প্রথম এই চুরির ঘটনা সামনে আসে, তখন কেন কোনো এফআইআর করা হয়নি? পরবর্তীতে যে ৮ জনকে গ্রেফতারের খবর সামনে এসেছে, তারা আসলে সামান্য স্তরের ক্যাশিয়ার এবং ক্যাশ গোনার কর্মী মাত্র। মহুয়ার দাবি, এদের মধ্যে কয়েকজন বারাণসীর একটি বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সির কর্মী।

মূল মাথাদের আড়াল করতেই এই চুনোপুঁটিদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

সোমবার অযোধ্যায় ট্রাস্টের বৈঠক এবং চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের ইস্তফা গ্রহণ প্রসঙ্গেও তীব্র কটাক্ষ করেন মহুয়া। তিনি বলেন, "গতকাল বৈঠকে যোগ দিতে ট্রাস্টের কর্তারা প্রায় দেড় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি চড়ে এসেছিলেন। আর বৈঠকের নির্যাস হলো—দুটি ইস্তফা গ্রহণ! এটাই কি যথেষ্ট শাস্তি? যদি মহিপাল সিংহের দাবি সত্যি হয় যে চম্পত রাই ২০২১ সাল থেকেই এই চুরির ব্যাপারে জানতেন, তবে তিনি এতদিন চেপে রাখলেন কেন?

কেন তখনই আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি?" মহুয়ার অভিযোগ, যোগী আদিত্যনাথ ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে এই ইস্যুটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্যই এখন সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন।

সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি এবং আরএসএস-কে একহাত নেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। তিনি অভিযোগ করেন, "১৯৭৯ সালের আগে প্রভু রামের প্রতি বিজেপির কোনো বিশেষ টান বা ভক্তি ছিল না। তারা স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে রাম নাম ব্যবহার করেছে এবং এখন রামের নামেই লুট চালাচ্ছে।" কীর্তি আজাদ আরও বলেন, "রাম মন্দির ট্রাস্টের সাথে যুক্ত বহু মানুষ আরএসএস এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-এর সদস্য। কোনো সঠিক নিয়ম বা পদ্ধতি না মেনেই এদের ট্রাস্টে বসানো হয়েছে। ভক্তরা সরল বিশ্বাসে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দান করেছিলেন, অথচ এর আগে খোদ নির্মোহী আখড়ার প্রধান বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে ১,৪০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপের অভিযোগ তুলেছিলেন।"