পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলার জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত ফের চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) শেষ হয়ে গিয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। এর মাঝেই ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পালটা জবাব হিসেবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেহরানও। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় যুদ্ধের আশঙ্কা এবং যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার বদলা নিতে ইরানের বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং কেশম দ্বীপে ইরানি স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় আমেরিকা। পাশাপাশি, ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্সও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন।

তুরস্কের আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি তাঁর মতে শেষ। তিনি বলেন, "ওদের সঙ্গে কাজ করাটা শুধু সময়ের অপচয়। ওরা অত্যন্ত নিকৃষ্ট, হিংস্র এবং অসুস্থ লোক। ওদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ওরা তা ব্যবহার করত।" তবে তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও, তার ইতিবাচক ফল নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
জানা গিয়েছে, গত দশ দিনের তুলনায় মঙ্গলবারের এই মার্কিন হামলা ছিল ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি শক্তিশালী। এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা বলে মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এই হামলা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার শেষ হতে চলা এই শোকপর্ব উত্তেজনা প্রশমনের একটি সময় হবে বলে মনে করা হয়েছিল। এরপর হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খোলা এবং বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি প্রত্যাহারের মতো বিষয়ে আলোচনা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু নতুন হামলার ফলে সেই আলোচনা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। হামলায় বন্দর মাহশহরে এক গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং বুশেহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমপ্লেক্সেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।
আমেরিকার এই পদক্ষেপের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।
এই দুই দেশেই মিসাইল হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
ইরানের সংসদ স্পিকার তথা প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের গালিবফ এক্স  হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, আমেরিকা সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, লেবাননে আগ্রাসন এবং দক্ষিণ ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, জবরদস্তির যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং ইরান কিছুতেই মাথা নত করবে না।
ইরানের সামরিক বাহিনী এবং খাতাম-আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতর এই হামলাকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে ‘চরম জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপদ যাতায়াত কেবল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ঠিক করে দেওয়া পথেই হতে হবে, বাইরের কোনও হস্তক্ষেপ তারা বরদাস্ত করবে না।
বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শীর্ষ কূটনীতিক আনোয়ার গারগাশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলা একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে তেহরান এখনও উত্তেজনা প্রশমন করতে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে অক্ষম।