পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই আলোচনার মাঝপথেই দুদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ইস্যুতে ইরানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে না চলে কিংবা যথাযথ আচরণ প্রদর্শন না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় রবিবার সুইজারল্যান্ডে এই শান্তি বৈঠকটি আয়োজিত হয়েছিল।
পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ীভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কয়েকদিন আগেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সমঝোতাপত্রের ১৪ দফা শর্ত বাস্তবায়িত ও পর্যালোচনা করার জন্য দুই পক্ষ মুখোমুখি হলেও বৈঠকটির ফলাফল নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৈঠকের প্রথম ৮০ মিনিট আলোচনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও মধ্যবর্তী বিরতির পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়।আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসে। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন যে, চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি আদৌ আলোচনায় ছিল কি না, তা নিয়ে তেহরান ভিন্নমত পোষণ করেছে। সোমবার আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজে ইরান কোনো বাধা সৃষ্টি করলে আমেরিকা তা সহ্য করবে না এবং দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তার পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্য মহম্মদ বাঘের কলিবফ সাফ জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের শব্দ চয়নে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং ইরান যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরান-মার্কিন এই নতুন সংঘাতের আবহে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আদৌ কাটবে কি না, তা নিয়ে গোটা বিশ্বে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।