পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মুক্তির মাত্র দুদিনের মাথাতেই ভারতের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম (জি ফাইভ) থেকে আচমকা সরিয়ে নেওয়া হলো দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত বহুল চর্চিত ছবি 'শতদ্রু' (Satluj)। ২০২২ সাল থেকে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশনে (সিবিএফসি) আটকে থাকার পর, গত ৩ জুলাই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু ৫ জুলাই সন্ধ্যায় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ছবিটি ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ ছবির সহ-লেখক নীরেন ভাট, যিনি এর নেপথ্যে সেন্সর বোর্ড বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কোনো ক্ষমতাশালী ব্যক্তির হাত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং কালরার জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিটি আন্তর্জাতিক স্তরে জি ফাইভ গ্লোবাল-এ এখনও সম্প্রচারিত হলেও, ভারতে তা ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছবির সহ-লেখক নীরেন ভাট ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমার মনে হয় সেন্সর বোর্ড বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের শীর্ষ স্তরে বসে থাকা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির এই ছবিটি নিয়ে মারাত্মক আপত্তি রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিষয়ে আমাদের সাথে বিন্দুমাত্র যোগাযোগ করা হয়নি।" তিনি অভিযোগ করেন, গত চার বছর ধরে সিবিএফসি ছবিটি নিয়ে সম্পূর্ণ ‘পিন-পতন নীরবতা’ পালন করেছে। ছবির ঠিক কোন অংশে তাদের আপত্তি বা কারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যাই দেওয়া হয়নি। এমনকি জি ফাইভ কর্তৃপক্ষ ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে ‘সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ’-এর কথা উল্লেখ করলেও, তা আসলে কী, সে ব্যাপারে কোনো স্পষ্টীকরণ দেয়নি।
আরও পড়ুন:
ছবিটি বাতিল হওয়ার পেছনে ‘বিদেশি শক্তির চক্রান্তে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা’র যে তত্ত্ব খাড়া করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে দাবি করেছেন নীরেন ভাট। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, "যদি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ও ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-র মতো ছবিগুলো আন্তর্জাতিক শক্তির হাতিয়ার হিসেবে তকমা না পেয়ে সসম্মানে চলতে পারে, তাহলে শুধু আমাদের ছবিটাকেই কেন চরমপন্থী উপাদানে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কায় বাতিল করা হলো? শুধুমাত্র একটি সাধারণ জীবনীমূলক ছবিকে দমন করার জন্য এমন কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো একেবারেই অযৌক্তিক।" ছবির লেখকদের দাবি, 'শতদ্রু'-কে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আটকানো হয়েছে। নীরেন ভাট স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। যাঁদের এই ছবি নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁদের আইনি পথেই নিজেদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে।