পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০০৮ সালের আহমেদাবাদ বোমা বিস্ফোরণ মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল গুজরাত হাইকোর্ট। মঙ্গলবার হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বিশেষ আদালতের ২০২২ সালের সেই নির্দেশকে সম্পূর্ণ বহাল রাখা হয়েছে। যেখানে ৩৮ জন অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডএবং অপর ১১ জনকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছিল। সাজাপ্রাপ্তদের তরফ থেকে পেশ করা সমস্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন ও আপিল খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি এ. ওয়াই. কোগজে এবং বিচারপতি সমীর দেবের সমন্বয়ে গঠিত গুজরাত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জঙ্গি সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন’-এর যে সমস্ত সদস্যরা ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই আমদাবাদ জুড়ে এই নারকীয় ও সমন্বিত বোমা হামলার নীল নকশা তৈরি করেছিল, তাদের সাজা কোনোভাবেই কমানো সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর আগে, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই মাত্র ৭০ মিনিটের ব্যবধানে আমদাবাদ শহরের ২১টি ভিন্ন ভিন্ন জনবহুল এলাকায় একের পর এক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। ভারতের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী এই জঙ্গি হামলায় মোট ৫৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
বর্বরতার সীমা ছাড়িয়ে জঙ্গিরা সেই সময় বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসা চলাকালীন বেশ কয়েকটি হাসপাতালকেও নিশানা করে বোমা রেখেছিল, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।আরও পড়ুন:
সুদীর্ঘ শুনানির পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ আদালত এই মামলাটিকে "বিরল থেকে বিরলতম" ক্যাটাগরি হিসেবে গণ্য করে ৩৮ জন জঙ্গিকে ফাঁসির মঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম কোনো একক মামলায় একসাথে এত বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির। বাকি ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিশেষ আদালতের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাজাপ্রাপ্তরা গুজরাত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার উচ্চ আদালত ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া অপরাধের মাত্রা এবং সাজার পরিমাণ—উভয়কেই যথাযথ বলে মান্যতা দিয়েছে।