বারুইপুরে নাবালিকা হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বারুইপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন। পুলিশ জানিয়েছে, আরও কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্য দুই ধৃতের নাম প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার।
নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল রাজ্য পুলিশের ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল।

রবিবার এক অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পর সোমবার সকালে আরও এক জনকে ধরা হয়। পরে যৌথ অভিযানে প্রধান অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং মঙ্গলবার ভবানীভবনে কিশোরীর বাবাকে ডাকা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে তিনটি মামলা দায়ের হলেও পরে রেল অবরোধের ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে মোট চারটি মামলা চলছে।

তবে গ্রেফতার হওয়া তিন জনই নাবালিকা হত্যার মামলার অভিযুক্ত।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চার জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী তদন্তে নেমেছে এবং পরিবারের চাওয়া সমস্ত সহযোগিতা সরকার করবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণপিটুনির ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উসকানির ইঙ্গিত মিলেছে। রেললাইন অবরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই জওয়ান আহত হয়েছেন এবং একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের ওই কিশোরী। রবিবার একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি রাস্তা ও রেল অবরোধে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বর্তমানে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে আদালতে তোলা হতে পারে।