পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রায় তিন বছর আগে খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভারতীয় এজেন্টদের "সম্ভাব্য যোগসূত্র" রয়েছে বলে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন, তা কার্যত খারিজ হয়ে গেল। বুধবার কানাডা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৩ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারত সরকারের কোনো আধিকারিক বা এজেন্টের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উলটে মার্কিন বিচার বিভাগ-এর একটি নয়া তদন্ত রিপোর্টে এই খুনের জন্য কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার আন্তর্জাতিক অপরাধ সিন্ডিকেটকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে।

কানাডার জাতীয় পুলিশ বাহিনী রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ-এর ডেপুটি কমিশনার লিসা মোরল্যান্ড কানাডিয়ান টিভি চ্যানেল সিবিসি নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "এই সংগঠিত অপরাধ সিন্ডিকেট সংক্রান্ত তদন্তে বা এখন পর্যন্ত পেশ করা চার্জশিটে ভারত সরকারের কোনো আধিকারিক জড়িত রয়েছেন বা তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে—এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। ভারত সরকারকে এর সাথে যুক্ত করার মতো কিছুই সামনে আসেনি।

" উল্লেখ্য, অতীতে ট্রুডোর তোলা এই অভিযোগকে ভারত সরকার "অযৌক্তিক" ও "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যার ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির যৌথ তল্লাশিতে ভারত-ভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সাথে যুক্ত ২৪ জনকে গ্রেফতার করার পরপরই এই নতুন তথ্য সামনে আসে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নিজ্জর হত্যাকাণ্ড ছাড়াও একাধিক অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের পেশ করা চার্জশিটে পঞ্জাবের ৩৩ বছর বয়সী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই—যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জেলে বন্দি—তাকে নিজ্জর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের উত্তর আমেরিকা শাখার প্রধান সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার (৩২), ইউরোপ শাখার প্রধান রোহিত গোদারা (৩৭) এবং সুখরাজ সিং কাংকে (৫৮) এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।