পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজ্যের তিন জেলায় একযোগে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন সকাল থেকেই দুর্গাপুর, হাওড়া এবং নদিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। মূলত চিটফান্ড এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা ও বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, দুর্গাপুরের অন্ডালের শ্রীপল্লী সুভাষনগরের রিকশাডাঙাল এলাকায় ইসিএলের প্রাক্তন কর্মী দিলীপ মল্লিকের বাড়িতে এদিন সকালে তল্লাশি শুরু হয়। অভিযোগ, দিলীপবাবু এবং তাঁর ছেলে দিগন্ত মল্লিক কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে একটি দপ্তর খুলে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের নাম করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি করেছেন।

সোশাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা তুলে তা বিদেশে পাচার করা হত বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। এই চক্রের সঙ্গে দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত দিগন্ত এর আগেও এই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্ত হন। সম্প্রতি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনকভাবে প্রচুর আর্থিক লেনদেনের হদিস পাওয়ার পরেই এদিন সকালে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালান আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, হাওড়ার ব্যাটরা থানা এলাকার কুচিল সরকার লেনের বাসিন্দা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও এদিন ইডি আধিকারিকরা হানা দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভ শেয়ার বাজারের ব্যবসার আড়ালে একাধিক বেআইনি চিটফান্ড সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পাশাপাশি নদিয়ার রানাঘাটের কালীনারায়ণপুরে শুভ্রকান্তি নাগ ওরফে বাবাই নাগের বাড়িতেও এদিন তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ, 'স্টক গুরুকুল' নামক একটি ভুয়ো সংস্থা খুলে শেয়ার বাজার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন শুভ্রকান্তি। তবে ইডির অভিযানের সময় অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী বা তাঁর পরিবারের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সমস্ত জায়গাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে বাড়িগুলি ঘিরে রেখে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডির আধিকারিকরা।