পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই আবহে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি ফিরতে চলেছে গোটা বিশ্বে। তবে এরমধ্যেই বিরাট ঘোষণা করল ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন জে লেবানন ও সিরিয়ায় দখল করা অঞ্চল থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
এই ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে আশঙ্কার মেঘ।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকা লেবাননে প্রায় ৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেই সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলেই সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে জানান নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। সেখানে সেনা শুধু প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্তই নয়, তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, জতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন সেনা মোতায়েন থাকবে।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় লেবানন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা জানা গেলেও ইসরাইলের এই অনড় অবস্থান নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই শান্তিচুক্তি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর করা হবে আগামী শুক্রবার। সেই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা আলোচনা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সুত্রের খবর। এই অবস্থায় ইসরাইলের বর্তমান অবস্থান পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, রবিবার বৈরুতের উপকণ্ঠে হামলা চালায় ইসরায়েল।
তাতে মৃত্যু হয় তিনজনের। যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রেক্ষাপটে এনিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে। আর এতে ওয়াশিংটনের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়। চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই এগিয়ে গেলেও নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। বিরোধী দল ও কট্টরপন্থি মহলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান শান্তি উদ্যোগ কতটা স্থিতিশীল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।আরও পড়ুন:
সুত্রঃ বিবিসি