পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ইউরোপের নিরাপত্তায় দীর্ঘদিনের প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও উত্তর আটলান্টিক জোটে সামরিক সহায়তা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন জোটভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নিজস্ব প্রতিরক্ষা দায়িত্ব আরও বেশি করে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ন্যাটোর জন্য বরাদ্দ মার্কিন সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং কিছু নৌসামরিক সম্পদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হতে পারে।
ন্যাটো সহায়তা কমিয়ে ওয়াশিংটন এখন নিজের কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তন আনতে চাইছে।আরও পড়ুন:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপে ন্যাটো অভিযানের জন্য বরাদ্দ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কমানোর কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতা এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের কাটছাঁট আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে গত মে মাসে ইউরোপীয় মিত্রদের জানানো হয়েছিল যে, যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে ন্যাটোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক শক্তি প্রস্তুত রাখে, তার পরিধি ছোট করা হবে।
সেই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের একটি অংশ। বর্তমান প্রশাসন ইউরোপের পরিবর্তে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেশি মনোযোগ দিতে আগ্রহী। ফলে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকেই এখন আরও বড় ভূমিকা নিতে হবে।
তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও সহায়তা কমে গেলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির মুখে জোটের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে ন্যাটোর সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত পরিবর্তনের পরও জোটের প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঘাটতি পূরণে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কাঠামো ও ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা জোরদারের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।