বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারপ্রতি ১৩৫ ডলার মূল্য নির্ধারণ করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ঘোষণা করেছে, যার ফলে কোম্পানিটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার। এই পদক্ষেপের পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইলন মাস্ক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। টেসলা ও স্পেসএক্স—দুই প্রতিষ্ঠানে তার বিপুল পরিমাণ মালিকানা রয়েছে।

স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক তিনি। বর্তমান মূল্যায়নে শুধু স্পেসএক্সে তার অংশীদারিত্বের মূল্যই প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলাতেও রয়েছে তার বড় অংশীদারিত্ব। ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টেসলা ও স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের মোট শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে এই হিসাবের মধ্যে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের ভিত্তিতে পাওয়া কিছু শেয়ারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্পেসএক্সের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপন এবং মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে মাস্কের কিছু অতিরিক্ত শেয়ার। ফলে এসব শর্তসাপেক্ষ অংশ বাদ দিলে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ট্রিলিয়নিয়ার বলা যাচ্ছে না।

তবুও তার সম্পদের পরিমাণ ইতোমধ্যে বিস্ময়কর উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, টেসলা ও স্পেসএক্সে তার মালিকানার মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। এছাড়া বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি—গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সম্মিলিত সম্পদের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে মাস্কের সম্পদ।

স্পেসএক্স আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে কোম্পানিটি প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার লোকসানে রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগকে এই লোকসানের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইলন মাস্ক সাধারণ বেতনের পরিবর্তে শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক গ্রহণের জন্য পরিচিত। তার পারিশ্রমিক বিভিন্ন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণের সঙ্গে যুক্ত। টেসলায় ১০ লাখ মানবসদৃশ রোবট সরবরাহের মতো লক্ষ্য অর্জনের ওপরও নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ আয়।