যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে জোর আলোচনা চলছে, তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটাতে উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তাকে আপাতত ‘গুঞ্জন’ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি।

আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এখনো চূড়ান্ত কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা বা বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকা উচিত।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। ফলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য চুক্তির ধারা বা শর্তাবলিকে এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়। এর মধ্যে ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, গত এক সপ্তাহে কয়েক দফা উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে আশাবাদী বার্তা দিলেও, আরাগচির বক্তব্যে আলোচনার ধীরগতি ও সতর্ক অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার আগে ইরান অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী। আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, চাপের মুখে বা তড়িঘড়ি করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি নয় তেহরান।