পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শুক্রবার সকালে সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নাম ব্যবহার করে প্রচারিত একটি খবরকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়ে যায়। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রচারিত ওই খবরে দাবি করা হয় যে, সাংসদ ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বিস্ফোরক চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর সরাসরি যোগ ছিল এবং তারা প্রতিবেশী দেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
আরও পড়ুন:
প্রচারের দাবি অনুযায়ী, ওই চিঠিতে তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ আহমদ হাসান ইমরানের নামও জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, বাংলাদেশের সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য এপার বাংলা থেকে অর্থ পাঠানো হয়েছিল বলেও ভিত্তিহীন দাবি করা হয়।
তবে, এই সম্পূর্ণ খবরটি যে বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের একটি ট্যুইট (এক্স) বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি সংবাদমাধ্যমকে পাঠানো ট্যুইটে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কোনো চিঠি লেখেননি এবং এই খবরের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।আরও পড়ুন:

কাকলী ঘোষ দস্তিদারের এই বক্তব্যের পর প্রমাণিত হয় যে, তাঁর নামে প্রচারিত ওই চিঠিটি একটি নিখুঁত জালিয়াতি।
মূলত আহমদ হাসান ইমরানকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করার লক্ষ্যেই এই মিথ্যা খবরটি ছড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আহমদ হাসান ইমরান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য এবং পশ্চিমবঙ্গকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ফেক চিঠি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।আরও পড়ুন:
ইমরান তাঁর চিঠিতে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হয়। তিনি আরও বলেন, অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার করা হয়েছে কিন্তু কেউ তা প্রমাণ করতে পারেনি। আহমদ হাসান ইমরান জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে কালিমালিপ্ত করে বাংলার সংখ্যালঘুদের সম্মানহানি করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই সফল হবে না।