পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার ভোর থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মোট আটটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর ভবানীপুর, কালীঘাট, জোকা ও দক্ষিণেশ্বরের একাধিক ঠিকানায় পৌঁছে যায় ইডির বিশেষ দল। অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ভবানীপুরের ফ্ল্যাটেই রয়েছেন মদন মিত্র। শনিবার সকাল ছ’টা নাগাদ সেখানে তল্লাশি শুরু হয়। একইসঙ্গে বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদও করছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও বেলেঘাটা, সন্তোষপুরের একটি ক্লাব এবং বেহালার একটি ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, মদন মিত্রের বাড়ি থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ অয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের সাতটি পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই গ্রুপ-ডি কর্মী, টাইপিস্ট-সহ একাধিক পদে নিয়োগের জন্য ওএমআর শিট ছাপানো এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হত। তদন্তকারীদের দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।
এই সাতটি পুরসভার মধ্যে কামারহাটি পুরসভাও রয়েছে। ফলে কামারহাটির বিধায়ক হিসেবে মদন মিত্রের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর। এর আগে কামারহাটি পুরসভার এক আধিকারিকের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই পুরনিয়োগ দুর্নীতির এই মামলায় নতুন করে তদন্তের গতি বাড়ানো হয়েছে।