পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের কৌশলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্রের।
 
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আকাশসীমায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকলেও নিম্ন আকাশসীমার হুমকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে ইরান।
 
স্টিমসন সেন্টার-এর সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো জানান, উচ্চ আকাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও তুলনামূলকভাবে সফল।

কিন্তু নিচু আকাশসীমায় ইরানের মোবাইল ও ছড়িয়ে থাকা ড্রোন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
 
গ্রিকোর ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সবচেয়ে কম বিনিয়োগ করেছে, ঠিক সেই জায়গাতেই এখন সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে।” ইরান অত্যন্ত ভ্রাম্যমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ আধিপত্যে বাধা সৃষ্টি করছে।
 
এই পরিস্থিতিতে খরচের দিকটিও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের তৈরি সস্তা শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যয় করতে হচ্ছে অত্যন্ত দামি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র।
ফলে যুদ্ধটি ধীরে ধীরে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
 
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন-এর বিশ্লেষক মাইকেল ও’হ্যানলন বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হলেও সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে তা কার্যকর নয়। তাঁর মতে, “ইরান একটি অস্ত্রে যত খরচ করছে, তার ১০ গুণ খরচ করে তা প্রতিহত করা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়।”
 
এদিকে যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত কমে আসছে বলেও জানা গেছে। একাধিক ক্ষেত্রে একটি ড্রোন ভূপাতিত করতে দুটি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 
তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন তেহরানের আকাশে “স্বাধীনভাবে” চলাচল করছে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবতা এতটা সরল নয়। ইরান সরাসরি আকাশ আধিপত্যের লড়াইয়ে না গিয়ে “বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ” কৌশল নিয়েছে—যেখানে ধারাবাহিক ছোট আঘাতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের খরচ বাড়ানো ও চাপ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।
 
সব মিলিয়ে, এই সংঘাতে প্রযুক্তি, কৌশল ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক জটিল লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যেখানে নিম্ন আকাশসীমাই হয়ে উঠেছে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র।