যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোতে নজিরবিহীন ধাক্কা লেগেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি থেকে শুরু করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, গোয়েন্দামন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। যদিও এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে তেহরান।
আরও পড়ুন:
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুদ্ধের শুরুতে তেহরানে এক বিমান হামলায় নিহত হন। হামলার সময় তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। একই হামলায় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারান। আহত হলেও বেঁচে যান তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি, যিনি পরবর্তীতে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন:
আলী লারিজানি
ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে খামেনির পর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মার্চে তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ তিনি নিহত হন।
আরও পড়ুন:
মোহাম্মদ পাকপুর
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন। এর আগে তিনি বাহিনীর স্থলবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ ওয়াহিদি।
আরও পড়ুন:
আলিরেজা তাংসিরি
আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:
আলী শামখানি
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের অন্যতম আলী শামখানি যুদ্ধের শুরুতেই এক বিমান হামলায় নিহত হন। আশির দশক থেকে তিনি ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
ইসমাইল খাতিব
২০২১ সাল থেকে গোয়েন্দামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইসমাইল খাতিব গত মার্চে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইরানে বিক্ষোভ দমনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
আরও পড়ুন:
আজিজ নাসিরজাদেহ
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ যুদ্ধের প্রথম দিনেই প্রাণ হারান। ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ এই সামরিক কর্মকর্তা ২০২৪ সাল থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
আরও পড়ুন:
গোলামরেজা সুলেইমানি
স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সুলেইমানিও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে এই বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন:
আলী মোহাম্মদ নাইনি
আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি এক হামলায় নিহত হন। মৃত্যুর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলছে।
আরও পড়ুন:
মোহাম্মদ শিরাজি
সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ শিরাজিও যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন।
আরও পড়ুন:
আবদুর রহিম মুসাভি
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি আইআরজিসি ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। যুদ্ধের শুরুতেই তিনি নিহত হন।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তাদের হামলায় ইরানের ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী নেতা নিহত হয়েছেন। এত বড় ধাক্কার পরও দ্রুত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তেহরান তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।